বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা কেন ভারতে যেতে বাধ্য হলেন?

India vs Bangladesh
বাংলাদেশ কি রক্ষা পাবে?

দিল্লির লালকেল্লায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর ভারতীয় তদন্ত সংস্থাগুলি যে তথ্য প্রকাশ করছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই ভারতের তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত এগোচ্ছে, এবং সেই তদন্তের কয়েকটি সুত্র অস্বস্তিকরভাবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দিকে নির্দেশ করছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার আকস্মিক দিল্লি সফর শুধু কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়—পরিস্থিতি ব্যাখ্যার একটি প্রয়োজনীয় ধাপ।

ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দাবি করছে যে বিস্ফোরণের কিছু দিন আগে ঢাকার বনানিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়, যেখানে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার সাইফউল্লাহ সাইফ ভার্চুয়ালি যোগ দেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, বৈঠকে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি ধর্মীয় সংগঠন ও জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে বাংলাদেশের সরকারি পদে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। যদিও ঢাকা এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে, তবুও ভারতের তদন্ত দল এই তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

ভারতের তদন্ত আরও বলছে যে পাকিস্তান থেকে কিছু সরঞ্জাম পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছেছিল এবং সম্ভবত বিস্ফোরণে তা ব্যবহৃত হয়েছে। একইসঙ্গে উল্লেখ এসেছে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার একটি নিরাপদ আস্তানার, যেখানে বাংলাদেশের পলাতক এক নাগরিক ইকতিয়ারের সহায়তায় কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি অবস্থান করেছিল বলে দাবি। বিস্ফোরণের তদন্তে বর্তমানে এই লজিস্টিক নেটওয়ার্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

ঢাকার অবস্থান এখনো স্পষ্ট ও অস্বীকারমূলক। বাংলাদেশ বলছে তাদের ভূমি বা নাগরিক জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত নয় এবং বিস্ফোরণের ঘটনায় তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু ভারতের তদন্ত দল যেভাবে তথ্য ও সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে, তাতে দুই দেশের বক্তব্যের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট ব্যবধান দেখা যাচ্ছে।

এটাই নিরাপত্তা উপদেষ্টার দিল্লি সফরের মূল কারণ- পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করা, তথ্য বিনিময় করা এবং ক্রমবর্ধমান সন্দেহের আবহ কমানো।

দু’দেশের সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক সুফল এনেছে। তাই দিল্লির অভিযোগকে পাশ কাটানো বা একে সাধারণ ভুল বোঝাবুঝি বলা বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয়।

ভারত এখন বিস্ফোরণের প্রতিটি সূত্র গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে, এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রশ্ন তুলছে, বাংলাদেশ তার নিজস্ব ভূখণ্ডে চলমান কার্যকলাপ সম্পর্কে কতটা অবগত।

এই প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা উপদেষ্টার দিল্লি সফর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কেবল আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আচরণ নয়; বরং আস্থার সংকট দূর করার একটি বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ। কারণ বর্তমান অবস্থায় ভারত শুধু ব্যাখ্যা নয়—স্পষ্ট তথ্য ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে।

বাংলাদেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার সফরের প্রয়োজনীয়তা এখানেই। অভিযোগের জবাব দেওয়া, সন্দেহ দূর করা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখা। অভিযোগ সত্যি হলে বাংলাদেশের অবস্থা কি হবে আগেভাগে ভেবে রাখুন।

সূত্রঃ zeenews.india

চাকমা রাজা বনাম বনভিক্ষু

Chakma raja vs Bana Bhikkhu
চাকমা রাজা বনাম বনভিক্ষু

বিষয়টি নিয়ে পাহাড়ের মানুষের মধ্যে এখনো বিতর্ক রয়েছে। কারো কাছে বিষয়টি পরিষ্কার, আবার কারো ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে স্বার্থসংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেই মনে হয়।

আমি এ নিয়ে একটি পোস্ট লিখতে চাই। জানি, অনেকে তাদের যুক্তি দিয়ে বিষয়টি ব্যাখ্যা করবেন।

কিন্তু তার আগে কয়েকটি বিষয় আরও স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন।

জাপান একটি উন্নত গণতান্ত্রিক দেশ। কিন্তু এই দেশেও এখনো “Emperor” আছেন। তার রাজনৈতিক ক্ষমতা নেই—তাই বলে সম্মান নেই, এমন নয়।

জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী শপথ নেওয়ার আগে “Emperor”-এর কাছে মাথা নত করে শপথ নেন, তারপর সংসদে গিয়ে দ্বিতীয়বার শপথ নেন। রাষ্ট্রের বড় সিদ্ধান্তেও “Emperor”-এর সম্মতি লাগে।

আর যখন সে Emperor রাস্তা দিয়ে যান, জাপানের মানুষ মাটিতে মাথা রেখে তাকে সম্মান জানায়। তাদের সেই ভক্তি ও শ্রদ্ধা না দেখলে বোঝা যায় না।

এ রকম আরও বহু দেশে রাজাদের সম্মানের অসংখ্য উদাহরণ আছে।

ত্রিপুরা, মারমা—সবারই রাজ্য আছে। চাকমাদের নেই। চাকমারা সবচেয়ে দুর্ভাগা জাতি।

যে জাতির রাজ্য নেই, রাজাও নেই, সেই জাতির মতো দুর্ভাগা জাতি আর কোথায় আছে?

কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য, রাজ্য না থাকলেও আমাদের মাননীয় চাকমা রাজাবাবু এখনো জীবিত। আমরা এখনো গর্ব করে বলতে পারি, “রাজ্য হারিয়েছি, কিন্তু রাজা হারাইনি।”

তাছাড়া আমাদের চাকমা রাজা একজন উচ্চ শিক্ষিত এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবান ব্যক্তি। তাকে নিয়ে আমার সত্যি গর্ব হয়।

দেশে-বিদেশে তার একটি বিশাল সম্মান রয়েছে—সেটা আপনাদের অনেকে আমার চেয়ে ভালো জানেন।

এবার মূল প্রশ্ন, চাকমা সমাজের জন্য বনভিক্ষু বড়, নাকি চাকমা রাজাবাবু বড়?

হ্যাঁ, ধর্মীয় দিক দিয়ে বনভিক্ষুরা বড়—এটা সত্য।

কিন্তু জাতির অস্তিত্ব, ভূমির অধিকার, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে রাজাই বড়—এ সত্য অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

কারণ, চাকমা রাজা একটি ব্যক্তি নন—তিনি চাকমা জাতির ১,৫০০ বছরের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা।

তিনি জাতির অস্তিত্বের প্রতীক।

বাংলাদেশ ও পাকিস্তান—দুই রাষ্ট্রই বারবার রাজার প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করতে চেয়েছে। কারণ তারা জানত, রাজার প্রতিষ্ঠান শক্ত থাকলে জাতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না।

কিন্তু তিনি এখনো টিকে রয়েছেন।

✡️ বনাম রাজনীতি – দুটি ভিন্ন ক্ষেত্র

অনেক ভান্তে মহান, জ্ঞানী, জাতির সম্পদ—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

কিন্তু কিছু ভান্তে যারা ধর্মের নামে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছেন—তারা জাতির উপকার করছেন না; বরং বিভক্তি বাড়াচ্ছেন।

এখনকার সংকটে রাজাবাবু চুপিসারে সমাধান টানতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু কিছু ভান্তে তা অমান্য করেছেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এটা কি জাতির জন্য ভালো?

সমস্যা সমাধানে রাজার কথা মানা হয় না। তাহলে কার কথা মানবেন? সমাধান তো একটা করতে হবে। সমাধান না করে তো থাকা যায় না। পৃথিবীর কোথাও এরকম নজির নেই।

যারা রাজার সিদ্ধান্ত মানেন না—তারা কার বিচার মানবেন?

হ্যাঁ, গণতান্ত্রিক দেশে কোর্ট আছে। তাহলে কি কোর্টের রায়ও মানতে রাজি হবেন?

✡️ চাকমা সমাজ আজ তিন ভাগে বিভক্ত

১. ধর্মীয় বিভাজন

২. রাজনৈতিক বিভাজন

৩. সংগঠনভিত্তিক বিভাজন

এই ভাঙন যত বাড়ছে, জাতির অস্তিত্ব তত ঝুঁকির দিকে যাচ্ছে।

একটি জাতি রাজা ছাড়া চলতে পারে। কিন্তু বিভক্ত জাতি কখনো টিকে থাকতে পারে না।

কিন্তু সমস্যা সমাধানে রাজার সিদ্ধান্ত মানা এখানে অনেক যুক্তিযুক্ত ছিল।

✡️ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কে চাকমার প্রতিনিধি?

রাজাবাবু আন্তর্জাতিক সম্মেলনে চাকমা জাতির অস্তিত্বের কথা বলেন—এবং তা বিশ্বমঞ্চে গ্রহণও করা হয়।

জাতিগোষ্ঠীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি রয়েছে ‘Indigenous Monarch/Headman’—এর।

ধর্মীয় নেতারা কোথাও ‘পলিটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ’ নন।

কোনো বনভিক্ষু এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাকমা জাতির হয়ে কথা বলতে পারেননি।

ঘরে সম্মান না থাকলে বাইরে সম্মান হয় না—এটাই বিশ্বসত্য।

অনেক কিছু লিখার আছে। তবে শেষ তো করতে হবে।

সোজা করে বলি, চাকমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে:

রাজাবাবুর কথা মানবেন, নাকি কিছু বিতর্কিত বনভিক্ষুর কথা মানবেন?

জাতির অস্তিত্ব রক্ষা করতে চাইলে, রাজাবাবুকে ঘরে আগে সম্মান দিন। ঘরে সন্মান পেলে বাইরেও সন্মান থাকে। বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। যে ধর্ম জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষা করে না সেই তুচ্ছ বিষয় নিয়ে যে মহান ব্যক্তি আন্তর্জাতিকভাবে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন তার সন্মান ক্ষুণ্ণ করা মঙ্গলজনক নয়।

(বিঃদ্রঃ—কে জাতির জন্য বেশি প্রয়োজন—চাকমা রাজাবাবু না বনভিক্ষু? এ বিষয়ে পাঁচটি তুলনা দিন। আমি সবার মন্তব্য পড়তে চাই এবং সমাজকে দেখাতে চাই, কারণ জাতি এই বিতর্কের সমাপ্তি চায়।)

মৌলবাদ

লক্ষনগুলো আসলে আলাদা-আলাদা “সমস্যা” নয়—একটাই রোগের অসংখ্য উপসর্গ। আর রোগটির নাম মৌলবাদ।

যেখানে মৌলবাদ দানা বাঁধে, সেখানে মানুষের পরিচয় ছোট হয়ে আসে, বিশ্বাস সংকুচিত হয়ে যায়, আর ভিন্নতাকে শত্রু বলে মনে হয়। তখন ইহুদি, হিন্দু, শিয়া, কাদিয়ানী, আদিবাসী—সবাই আলাদা কোনো অন্যায় করেনি।

কিন্তু তবুও তারা “সমস্যা” হয়ে ওঠে শুধু কারণ তারা ভিন্ন।

আবার সঙ্গীত, নৃত্য, ভালোবাসা, বসন্ত, বাউল, রবীন্দ্রনাথ—এসবও কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু মৌলবাদী মানসিকতা ভিন্ন আনন্দ, ভিন্ন শিল্প, ভিন্ন উৎসবকে হুমকি বলে মনে করে।

মৌলবাদ যত বড় হয়, তালিকাও তত দীর্ঘ হয়।
ধর্মীয় ভিন্নতা “সমস্যা” হয়—
ইহুদি, হিন্দু, শিয়া, কাদিয়ানী, আহলে কোরান, আদিবাসী, ইসকন—সবাই।

সংস্কৃতি “সমস্যা” হয়—
মন্দির, মাজার, সুফি, সাধু, বাউল, রবীন্দ্রনাথ, লালন, রোকেয়া, জাহানারা—সবাই।

আনন্দ উদযাপন “সমস্যা” হয়—
ভালোবাসা, সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্র, নৃত্য, চলচ্চিত্র, পহেলা বৈশাখ, বাংলা নাম, বসন্ত, নাট্যোৎসব, ঘুড়ি উৎসব, চারুকলা, ভাস্কর্য, মূর্তি—সবই।

চিন্তা ও অধিকারও “সমস্যা” হয়—
যুক্তি, প্রশ্ন, মুক্তচিন্তা, মুক্তমনা, নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী, নারী, নারীর চাকরি, নারী অধিকার, পোশাক, নারী কমিশন—সবই।

ইতিহাসও রেহাই পায় না—
মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তর, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সঙ্গীত—এসবও আক্রান্ত হয় একই সংকীর্ণতার কারণে।

সুতরাং এসবের মূল কারণ একটাই—
মৌলবাদ সেই দৃষ্টিভঙ্গি, যা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে অস্বীকার করে।

এটি সমাজকে শত্রু ও শত্রুহীন দুই ভাগে ভাগ করে, অভিন্ন ইতিহাসকেও সন্দেহে ভরিয়ে দেয়, আর স্বাধীনতার প্রতিটি চিহ্নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

যতক্ষণ মৌলবাদ টিকে থাকবে, ততক্ষণ তালিকাও লম্বা থাকবে।

মানুষ বদলাবে, নাম বদলাবে। কিন্তু “সমস্যা” নামের এই ফাইলগুলো কখনো বন্ধ হবে না।

সমাধান একটাই:

মৌলবাদ নয়—মানবতা।
ঘৃণা নয়—সম্মান।
অন্ধতা নয়—চিন্তা।

বাংলাদেশ কি এখন এক নীরব বিস্ফোরণের পথে?

আমার কাছে আজকের পত্রিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর মনে হয়েছিল শিক্ষক আর শ্রমিক। বাংলাদেশের হাজারো সমস্যার মধ্যে আজ এ দুটি বিষয় নিয়ে লিখছি।

বাংলাদেশ আজ এক অদ্ভুত সময় পার করছে। দেশের পোশাকশিল্প যা একসময় অর্থনীতির প্রাণ ছিল – এখন ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছে। তিন শতাধিক কারখানায় তালা ঝুলছে, আর ছয় লক্ষেরও বেশি শ্রমিক হঠাৎ করেই কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

একই সঙ্গে, প্রাথমিক শিক্ষকেরা বেতনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের প্রতিবাদে প্রায় পঁয়ষট্টি হাজার স্কুলে ক্লাস বন্ধ।

এই দুই সংবাদ আলাদা নয়, বরং একটি বৃহত্তর সংকটের দুটি প্রতিচ্ছবি।

শিক্ষা আর শ্রম—এই দুটোই একটি রাষ্ট্রের ভিত্তি। আজ সেই ভিত্তিই কেঁপে উঠেছে। শিক্ষক রাস্তায়, শ্রমিক রাস্তায়—যেখানে শিক্ষা থেমে যায় আর উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে, সেখানে জাতির ভবিষ্যৎও থমকে দাঁড়ায়।

এসব কেবল অর্থনৈতিক সংবাদ নয়; এগুলো সামাজিক ও রাজনৈতিক সতর্কসংকেত, যা বোঝায় যে রাষ্ট্র তার নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করেছে।

যে পোশাকশিল্প বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মূল উৎস, সেই খাতের পতন আন্তর্জাতিকভাবে ভয়ানক বার্তা দিচ্ছে।

ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা এখন প্রশ্ন করছে, বাংলাদেশ কি এখনও একটি স্থিতিশীল উৎপাদন কেন্দ্র?

এই প্রশ্নই ভবিষ্যতে বিনিয়োগের রূপরেখা নির্ধারণ করবে। যদি তারা বিকল্প হিসেবে ভিয়েতনাম বা কম্বোডিয়ার দিকে ঝুঁকে যায়, তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের পতন অনিবার্য।

আর এর ফলাফল হবে—বিদেশি মুদ্রা ঘাটতি, মূল্যস্ফীতি, আর জনজীবনে নতুন দারিদ্র্যের স্রোত।

অন্যদিকে, শিক্ষকদের আন্দোলন শুধু বেতন বা মর্যাদার দাবি নয়, এটি রাষ্ট্রের নৈতিক ভারসাম্যের পরীক্ষা।

একজন শিক্ষক যখন তার অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নামেন, তখন সেটি কোনো রাজনৈতিক বিদ্রোহ নয়—সেটি সভ্যতার এক আর্তনাদ।

কিন্তু যদি সেই আর্তনাদে সরকার কানে না দেয়, যদি পুলিশি বল প্রয়োগই হয় একমাত্র উত্তর, তাহলে সেই রাষ্ট্রের প্রশাসনিক নৈতিকতা কোথায় দাঁড়ায়?

এই দুই সেক্টরের সংকট একত্রে বাংলাদেশের ভেতরে এক অদৃশ্য অস্থিরতা তৈরি করছে। সাধারণ মানুষ মুখে কিছু না বললেও, তাদের মনে ক্ষোভ জমছে।

পরিবারগুলোতে আতঙ্ক, অভিভাবকের মনে হতাশা, আর তরুণ প্রজন্মের চোখে অনিশ্চয়তা। এভাবেই একদিন সমাজে এক নীরব আগুন জ্বলে ওঠে। আর সে আগুনের শিখা শেষ পর্যন্ত রাজপথে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটি এক বিপজ্জনক সময়। সরকার এখন প্রতিটি প্রতিবাদকেই “ষড়যন্ত্র” বা “বিরোধীদের উস্কানি” হিসেবে দেখছে।

কিন্তু যখন শ্রমিক, শিক্ষক, কৃষক, এবং সাধারণ নাগরিক একে একে রাস্তায় নামে, তখন সেটি আর কোনো দলের বিষয় নয়—সেটি রাষ্ট্রের আত্মসংকট।

এই সংকট যদি সমাধান না হয়, তাহলে আগামী বছর আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

পশ্চিমা দাতা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ক্রেতারা ইতিমধ্যেই উদ্বিগ্ন। শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়ছে। যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নের “GSP Plus” সুবিধা হারিয়ে যায়, তাহলে রপ্তানিমুখী অর্থনীতি টিকবে না।

বিদেশি সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের ছবি এখন আন্দোলন, সংঘর্ষ ও দমননীতি দিয়ে ভরা। আর এই ছবিই ধীরে ধীরে দেশের ভাবমূর্তিকে ‘অস্থির রাষ্ট্র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে নয় বরং একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে আমার আশঙ্কা, বাংলাদেশ এখন এক সঙ্কটবিন্দুতে দাঁড়িয়ে আছে। অর্থনৈতিক পতন, প্রশাসনিক অদক্ষতা, আর রাজনৈতিক অবিশ্বাস—এই তিনটি বিষয় একসাথে যদি বিস্তার লাভ করে, তাহলে দেশ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হবে।

আন্তর্জাতিক আস্থা হারালে দেশকে হয়তো বাধ্য হয়ে নতুন নির্ভরতার দিকে—চীন বা মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক ব্লকে—ঝুঁকতে হবে। কিন্তু সেই পথও নিরাপদ নয়; সেটি কৌশলগত দাসত্বের দিকেও নিয়ে যেতে পারে।

অবশেষে প্রশ্ন একটাই, এই সংকট রাষ্ট্রের চোখে ‘সমস্যা’ নাকি ‘সতর্কবার্তা’?

যদি এখনই সংলাপ, সংস্কার ও সহনশীলতার পথে না ফেরা যায়, তাহলে বাংলাদেশের আগামী প্রজন্ম শুধু চাকরি নয়, রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসও হারাবে।

কারখানার নীরবতা, স্কুলের বন্ধ দরজা, আর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ক্লান্ত শ্রমিকদের মুখ—এসবই আসলে ভবিষ্যতের প্রতিচ্ছবি।

যে রাষ্ট্র তার শ্রমিক ও শিক্ষকের কান্না শুনতে পায় না, সে রাষ্ট্র একদিন নিজের পতনের শব্দও শুনতে পায় না।

আমরা কি তার সাক্ষী হতে যাচ্ছি?


নাইজেরিয়ার লড়াই: কে আসল সন্ত্রাসী—শাসক, না বিদ্রোহী?

লারমা_ নাইজেরিয়া
নাইজেরিয়া লারমা

নাইজেরিয়ায় এখন এক অদ্ভুত নীরব যুদ্ধ চলছে।

বাইরের চোখে এটি হয়তো “সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই”, কিন্তু ভেতরে এটি আসলে ধর্ম, জাতি ও ক্ষমতার সংঘর্ষ।

এই সংঘর্ষের কেন্দ্রে আছে এক নাম— ননদি কানু (Nnamdi Kanu) এবং তার নেতৃত্বাধীন আন্দোলন আইপিওবি (IPOB), যাকে সরকার “সন্ত্রাসী সংগঠন” বলে চিহ্নিত করেছে।

কিন্তু যখন আমেরিকা ঘোষণা দিল যে তারা নাইজেরিয়ায় এসে সন্ত্রাস দমন করবে, তখন দেখা গেল, যাদের সরকার সন্ত্রাসী বলে, তারাই বরং খুশি।

আর যারা সন্ত্রাস দমনের পক্ষপাতী ছিল, তারাই এখন আমেরিকার বিরোধিতা করছে।

প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে আসল সন্ত্রাসী কারা?

ধর্ম ও ভূগোলের বিভাজন

নাইজেরিয়ার ধর্মীয় ও জাতিগত মানচিত্র এই সংকটের মূলে।

দেশটির উত্তরাঞ্চল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ, যেখানে চরমপন্থী ইসলামী সংগঠন বোকো হারাম (Boko Haram) এবং আইএসডব্লিউএপি (ISWAP) দীর্ঘদিন ধরে খ্রিষ্টানদের উপর হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বসবাসরত ইগবো জনগোষ্ঠী প্রায় সবাই খ্রিষ্টান, এবং তারাই ‘বিয়াফ্রা’ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র চায়।

এই স্বাধীনতার দাবিতেই জন্ম নেয় IPOB (Indigenous People of Biafra) — যা মূলত এক রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন।

কারা মারছে খ্রিষ্টানদের?

খ্রিষ্টান হত্যার মূল উৎস উত্তরের ইসলামী জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো।

বোকো হারাম ও আইএসডব্লিউএপি গত এক দশকে হাজার হাজার খ্রিষ্টানকে হত্যা করেছে, গির্জা জ্বালিয়ে দিয়েছে। মেয়েদের অপহরণ করেছে নিয়ে ধর্ষণ করে যাচ্ছে এবং গ্রাম ধ্বংস করেছে।

তাদের লক্ষ্য একটাই, নাইজেরিয়াকে ইসলামী রাষ্ট্রে রূপান্তর করা।

অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্বের IPOB বা ইগবো জনগণ এসব হত্যার শিকার।

তাদের দাবি—সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে খ্রিষ্টান ও ইগবো সম্প্রদায়ের ওপর দমননীতি চালাচ্ছে, অথচ উত্তরাঞ্চলের আসল সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তেমন কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

সরকারের ভূমিকা: নীরবতা ও দ্বিমুখী আচরণ

নাইজেরিয়ার সরকার প্রকাশ্যে বলে—“আমরা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছি।”

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সরকার উত্তরের ইসলামী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দুর্বল, আর দক্ষিণ-পূর্বের খ্রিষ্টান বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর।

অর্থাৎ, যারা রাষ্ট্র ভাঙার দাবি করছে, তারা সরকারের শত্রু; কিন্তু যারা ধর্মের নামে খ্রিষ্টান হত্যা করছে, তারা সরকারের সুবিধাভোগী নীরবতার মধ্যে রয়ে গেছে।

এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণেই আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, নাইজেরিয়ার সরকার কি সত্যিই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়ছে, নাকি ধর্মীয় পক্ষপাতিত্বের রাজনীতি চালাচ্ছে?

খ্রিষ্টানদের প্রসঙ্গ কেন গুরুত্বপূর্ণ

IPOB-এর আন্দোলনের কেন্দ্র খ্রিষ্টানপ্রধান ইগবো সমাজ।

তারা যখন স্বাধীনতার দাবি তোলে, তখন সরকার তাদের “সন্ত্রাসী” বলে দমন করে।

কিন্তু একই সময়ে, ইসলামী জঙ্গিরা যখন খ্রিষ্টান গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়, তখন সরকার “গণসংঘর্ষ” বলে দায় এড়িয়ে যায়।

এ কারণেই পশ্চিমা দেশগুলো, বিশেষত আমেরিকা ও ইউরোপ, নাইজেরিয়ার খ্রিষ্টান নিপীড়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
আর যখন আমেরিকা ঘোষণা করল যে তারা নাইজেরিয়ায় এসে “সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান” চালাবে, তখন IPOB সদস্যরা এবং দক্ষিণ-পূর্বের খ্রিষ্টানরা স্বস্তি পেল। তারা ভাবল, এবার হয়তো তাদের হত্যার বিচার হবে।

বিরোধের চূড়ান্ত প্রশ্ন

কিন্তু এখানেই শুরু হলো নতুন দ্বন্দ্ব।

সরকার ও উত্তরাঞ্চলের মুসলিম নেতারা হঠাৎই আমেরিকার উপস্থিতির বিরোধিতা শুরু করল।

যারা এতদিন বলেছিল IPOB সন্ত্রাসী, তারা এখন আমেরিকাকে বলছে, “আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করো না।”
অন্যদিকে, যাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলা হয়েছিল, তারা আমেরিকাকে স্বাগত জানাচ্ছে।

এখানেই সাধারণ নাগরিকদের মনে প্রশ্ন জাগছে—
👉 তাহলে আসল সন্ত্রাসী কে?

যারা হত্যা করছে, নাকি যারা ন্যায়বিচার চাইছে?

একটি দেশের বিবেকের প্রশ্ন

নাইজেরিয়ার এই লড়াই ধর্ম, জাতি বা রাজনীতির চেয়ে অনেক গভীর কিছু।

এটি এক জাতির বিবেকের পরীক্ষা যেখানে শাসক আর বিদ্রোহীর সীমারেখা ক্রমেই মুছে যাচ্ছে।

যে সরকার জনগণের রক্তপাতের দায় এড়ায়, সে নিজেই নীরব সন্ত্রাসের অংশ।

আর যে জনগণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলে, তাকে যদি বিদ্রোহী বলা হয়, তাহলে হয়তো ইতিহাসের প্রতিটি মুক্তিযুদ্ধই “সন্ত্রাসবাদ” ছিল।

শেষ করবো যদিও আরও অনেক লেখার আছে। পরে সময় করে লিখবো।

নাইজেরিয়ার এই লড়াই আজ শুধু এক দেশের নয়। এটি বিশ্বের প্রতিটি নিপীড়িত জনগোষ্ঠীর আয়না।

কারণ একদিন না একদিন, সবাইকেই এই প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, “কে আসল সন্ত্রাসী—যে অস্ত্র ধরে, নাকি যে সত্য বলে?”

এবার বলুন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রতিচ্ছবি এখানে দেখতে পান কিনা? আর যদি দেখতে পান দয়া করে শেয়ার করবেন, জানিয়ে দিবেন যে আমরা পাহাড়ে যারা আছি আমরা একা নই। কিন্তু আমাদের কোন পথে হাঁটতে হবে?


NOTAM শুনে মৌলবাদীদের জ্বর

ভারত যখন হঠাৎ আকাশে সামরিক মহড়া শুরু করল, তখন বাংলাদেশের কিছু মৌলবাদী ভয়ে কাঁপতে শুরু করেছে।

আগে যাদের বুকের ভেতর ‘ইসলামী বীরত্বের’ ঢাক বাজত, এখন সেই ঢাকের চামড়া শুকিয়ে যাচ্ছে আতঙ্কে।

নতুন এই NOTAM শুনে তারা কেউ কেউ ঘরে বসেই তসবিহ গুনছে, কেউ বলছে, “এই বুঝি ভারতের ড্রোন ঢুকে পড়ল!”

যারা গত সপ্তাহ পর্যন্ত বলছিল “ভারতের চিকেন নেক আমরা এক রাতে কেটে ফেলব”! তারা এখন সেই চিকেন নেকের নাম শুনলেই এক গ্লাস পানিও গিলতে পারছে না।

যারা বলত, “ভারতের কলকাতা পর্যন্ত পৌঁছাতে এক ঘণ্টা লাগবে”, তারা এখন চুপচাপ। কারণ ভারতের এই মহড়ার মানচিত্রে বাংলাদেশের নামই পড়ে গেছে একদম সীমান্তের পাশে!

অনেকে বলছে কিছু অংশ একদম ভারতের ভিতরে চলে গেছে।

এক সময় এই মৌলবাদীরা গভীর রাতে ঢাকায় স্লোগান দিত, “চিকেন নেক আমাদের, কাশ্মীর আমাদের, হিন্দুস্তানও একদিন আমাদের হবে!”

এখন তারা সেই স্লোগানের ভিডিও মুছে দিচ্ছে। কারণ ভারতের আকাশে যুদ্ধবিমান উঠলেই তাদের বুকের ভেতর ‘নট-এ-হিন্দু’ রাডার বেজে ওঠে!

তাদের কেউ কেউ গর্ব করে বলত, “আমরা Landlock Seven Sisters কে মুক্ত করব!”

কিন্তু এখন ভারতের একখানা NOTAM ঘোষণাতেই তাদের সেই সাত বোনের কল্পনা ধুলো হয়ে উড়ে গেছে।

যারা আগে তুরস্ক আর পাকিস্তানকে পরিকল্পনা পাঠাত—“কিভাবে ভারতকে চুপ করানো যায়”, তারা এখন সেই মেইলগুলো ডিলিট করছে, যেন ভারত না দেখে ফেলে!

সত্যি বলতে, ভারতের এই NOTAM যেন একপ্রকার ‘ভয়ের টিকা’।

যাদের মনে যুদ্ধের হুজুগ, তাদের এই টিকা এক ডোজেই ঠান্ডা করে দিয়েছে।

বাংলাদেশের মৌলবাদীরা এখন গরম চা না খেয়ে ঠান্ডা পানি খাচ্ছে। কারণ জ্বরটা নাকি ১০২ থেকে ১০৪-এ উঠছে, “ওপরওয়ালা, ভারত আকাশে উঠছে!” বলে তারা হাপাচ্ছে!

তারা এখন নতুন তত্ত্ব দিচ্ছে, “এই NOTAM আসলে আমেরিকার ষড়যন্ত্র, ইসরায়েলের নির্দেশ, আর ভারতের পরীক্ষামূলক অভিযান!”

কেউ বলছে, “এইটা কিয়ামতের আলামত!”

কেউ আবার ফেসবুকে লিখছে, “এই মহড়ার সময় আকাশে নামাজ পড়া হারাম কি না?”

ভাবো, কী দারুণ দেশপ্রেম—নিজেদের নয়, অন্যের আকাশে ভয়!

কিন্তু বাস্তবতা খুব সোজা।

ভারত তার নিজস্ব আকাশে সামরিক মহড়া করছে। এটা তার নিয়মিত প্রতিরক্ষা অনুশীলন।

তবু বাংলাদেশের এই ভীত-ভূতেরা এটাকে দেখে মনে করছে যেন ভারতের বিমানগুলো নামছে সরাসরি তাদের উঠোনে!

যারা এক সময় ভারতের মানচিত্রে আঙুল দিয়ে বলত,“এখানেই আমাদের ভবিষ্যৎ যুদ্ধ হবে,”

তারা আজ খবরের মানচিত্রে লাল দাগ দেখেই ঘামে ভিজে যাচ্ছে।

তাদের সেই আগুনে বক্তৃতা এখন নিভে গেছে;

কারণ NOTAM-এর শব্দটাই এখন তাদের কাছে মানে, “No Talk After Mahra!” 😄

⸻

পাহাড় থেকে উঠে আসা লেখকদের খুঁজছি

আমাদের পাহাড়ি লেখকদের গল্প যেন পৃথিবী শুনতে পায়
আমাদের পাহাড়ি লেখকদের গল্প পৃথিবীকে শুনাতে চাই

বন্ধুরা,
আমি এখন একটি জরিপ (survey) চালাতে চাইছি। আমাদের সেই সব প্রিয় পাহাড়ি ভাই-বোনদের নিয়ে, যারা আজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন এবং নিয়মিত লেখালেখি করেন।

আমাদের পাহাড় থেকে অসংখ্য প্রতিভাবান লেখক, কবি, সাংবাদিক ও গল্পকার ছড়িয়ে আছেন—জাপান, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপে। কিন্তু আমরা কি একে অপরকে চিনি?

এই জরিপের লক্ষ্য একটাই—
👉 পৃথিবীর যেখানেই তারা থাকুন, পাহাড়ি লেখকদের একটি আন্তর্জাতিক সংযোগ তৈরি করা।

তাই আপনাদের কাছে আমার ছোট অনুরোধ, আপনার পরিচিত অন্তত ১০ জন পাহাড় থেকে বিদেশে বসবাসকারী লেখক বা লেখিকা—তাদের নাম লিখুন নিচে, অথবা ইনবক্সে পাঠিয়ে দিন।

এটা শুধু একটি তালিকা নয়, এটা হবে আমাদের কণ্ঠগুলোকে একত্রিত করার প্রথম পদক্ষেপ। আমি এই বিষয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ভাবছি তাদের প্রতিভা এবং কণ্ঠকে কিভাবে পাহাড়ের জন্য কাজে লাগানো যায়।

আপনাদের একটু সহযোগিতা হয়তো সেই পথকে একটু সামনে এগিয়ে দিতে পারে।

আমরা যদি একে অপরকে চিনতে পারি, একদিন হয়তো পাহাড় থেকে বিশ্বে একটি যৌথ সাহিত্য আন্দোলন গড়ে তুলতে পারব।

আসুন, একে অপরকে চিনিয়ে দিই।

দয়া করে লিখুন, শেয়ার করুন, এবং আমাদের এই উদ্যোগে যুক্ত হোন।

আমাদের পাহাড়ি লেখকদের গল্প যেন পৃথিবী শুনতে পায়।


২০২৫ সালে নিউ ইয়র্কে দ্বিতীয়বার হামলা

নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের
নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (দূর থেকে এবং নিচ থেকে)

শিরোনাম শুনে ভয়ে আঁটকে উঠলেন?

হ্যাঁ, আজ নিউ ইয়র্কে বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৫। বলা যায় আরেকবার নিউ ইয়র্কে হামলা হয়েছে। ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার মাত্র দু’ দশক পরে এই নিউ ইয়র্ক শহরে প্রথম মুসলিম মেয়র পদে নির্বাচিত হলেন।

বিস্ময় বলে কিছু নেই। আমেরিকা হয়তো বিদেশে মৌলবাদী সন্ত্রাসীর সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হয় কিন্তু ২০২৫ সালে নিজের ঘরে সন্ত্রাসীদের কাছে পরাজয় বরন করে নিলেন। ইতিহাস বড়ই নির্মম।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ঘটে যায় এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে, আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১১ নামের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আঘাত হানে।

তার মাত্র ১৭ মিনিট পর, সকাল ৯টা ০৩ মিনিটে, আরেকটি ছিনতাই করা বিমান — ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১৭৫ — আঘাত করে দক্ষিণ টাওয়ারে। মুহূর্তেই দুই টাওয়ারে আগুন জ্বলে ওঠে, বিস্ফোরণ ঘটে, এবং হাজার হাজার মানুষ আটকে পড়ে ভেতরে।

সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে, আরেকটি বিমান (ফ্লাইট ৭৭) আঘাত হানে ওয়াশিংটনের পেন্টাগন ভবনে যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। আর চতুর্থ বিমানটি (ফ্লাইট ৯৩) ওয়াশিংটনের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু যাত্রীরা সাহসিকতার সঙ্গে ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করেন, ফলে সেটি পেনসিলভানিয়ায় মাঠের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়।

সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে দক্ষিণ টাওয়ার এবং ১০টা ২৮ মিনিটে উত্তর টাওয়ার সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দুইটি গগনচুম্বী ভবন মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

সেদিন মোট ২,৯৭৭ জন মানুষ নিহত হন সাধারণ কর্মজীবী মানুষ, দমকলকর্মী, পুলিশ, এবং উদ্ধারকারী দলসহ। এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাগুলোর একটি।

কেন ভেঙে পড়েছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার?

১. বিমান আঘাত:

দুইটি বোয়িং ৭৬৭ যাত্রীবাহী বিমান ভবনের মধ্যভাগে আঘাত করে। বিমানগুলোতে ছিল প্রচুর জ্বালানি (jet fuel), যা বিস্ফোরণের সময় ভয়াবহ আগুনের সৃষ্টি করে।

২. অগ্নিকাণ্ড ও গলন:

বিমানবাহী জ্বালানির তাপে ভবনের স্টিল কাঠামো অত্যন্ত গরম হয়ে যায় (১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত)। স্টিল সেই তাপে নরম হয়ে ভেতরের কাঠামোগুলো ভেঙে যায়।

৩. ভারসাম্য হারানো:

ভবনের উপরের অংশ নিচের তলায় ভেঙে পড়ে, ফলে একটি চেইন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তলা ধরে তলা ভেঙে পড়তে থাকে। একে বলে progressive collapse।

ফলাফল: কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিশাল টাওয়ার দুটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

কারা করেছিল এই হামলা?

এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল আল-কায়েদা (Al-Qaeda) নামের এক জঙ্গি সংগঠন।

এর নেতা ছিল ওসামা বিন লাদেন, যিনি পরে আফগানিস্তানে লুকিয়ে ছিলেন।

তারা দাবি করেছিল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ ও নীতির প্রতিশোধ হিসেবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

এরপর কি হয়েছিল?

  • যুক্তরাষ্ট্র “War on Terror” বা “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” ঘোষণা করে।
  • ২০০১ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরু হয়, তালেবান সরকারকে সরাতে।
  • ২০১১ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে অভিযান চালিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে।
  • নিউ ইয়র্কে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন ভবন ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (Freedom Tower) নির্মাণ করা হয়, যা ২০১৪ সালে উদ্বোধন হয়।

একটি প্রতীকী বার্তা

৯/১১ শুধু আমেরিকার ওপর আঘাত ছিল না; এটি পুরো মানবতার ওপর আঘাত ছিল।

তবুও নিউ ইয়র্ক থেমে যায়নি। শহরটি ধ্বংসের মধ্য থেকেও উঠেছে নতুন ভবন, নতুন প্রজন্ম, আর নতুন আশার মাধ্যমে।

আজও যখন কেউ নিউ ইয়র্কের আকাশের দিকে তাকায়, তারা শুধু একটি শহর দেখে না — দেখে মানবতার শক্তি, বেঁচে থাকার সাহস, আর পুনর্জন্মের প্রতীক।

আপনি কি চান আমি পরের অংশে লিখি, “কিভাবে ৯/১১-র পর নিউ ইয়র্ক আবার ঘুরে দাঁড়াল” — যেখানে বলব অর্থনীতি, স্থাপত্য, ও মানুষের মনোবল কীভাবে বদলেছিল?

কিন্তু আজ শুধু আমেরিকার সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট নয় বরং সমস্ত আমেরিকা আজ নিজের দেশে পরাজিত হল। জোহরান মামদানি আজ বিশাল ভোটে নিউ ইয়র্কে জয় লাভ করেছেন। ট্রাম্প বিরোধী দলের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েও জোহরান মামদানি পরাজয় ঘটাতে পারলেন না। এটা নিঃসন্দেহে এক করুন পরাজয়।

তাই ২০২৫ সালে নিউ ইয়র্কে দ্বিতীয়বার হামলা বলা যায়।

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভারতের কাছে হেরে গেল!

দীর্ঘ সাত ঘণ্টার বৈঠক, টেবিলে ফুলের মালা, সামনে বোর্ডে আরবি কালেমা আর চারদিকে গম্ভীর মুখ।অবশেষে বাংলাদেশ সাহসিকতার সঙ্গে ঘোষণা করল, “জাকির নায়েক আপাতত ঢাকায় আসতে পারবেন না।”

এই এক সিদ্ধান্ত নিতেই যেন জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ লড়া হলো!

কেউ বলল, তিনি এলেই লাখো মানুষ ভিড় করবে, কেউ বলল নিরাপত্তা দেবে কে, সবাই এখন তো “নির্বাচনমুখী”! যেন নায়েক ঢাকায় নামলেই পুরো দেশ গিলে ফেলবেন!

আমার বড্ড হাসি পাই।

তবুও এই সিদ্ধান্তের ভেতরে এক মহান রাজনৈতিক সাফল্য লুকিয়ে আছে , ভারত যা চেয়েছিল, বাংলাদেশ সেটাই করতে বাধ্য হল।

মানে, বাংলাদেশ স্বাধীন, সার্বভৌম, কিন্তু সার্বভৌমত্ব ব্যবহারের আগে দিল্লির অনুমতি লাগে।

এই দৃশ্য দেখে মনে হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন এক কথায় সংক্ষিপ্ত করা যায়: “ভারত মাতা বলতে হবে, না বললে কোন কাজ করা যাবে না”- মৌলবাদী সরকার যতই ভারতের বিরুদ্ধে তর্জন গর্জন করুক।

যে দেশে একটা বক্তা ঢুকবে কিনা, সেটা নিয়েও বৈঠক করতে হয় সেই দেশে কি সত্যিই ‘রাষ্ট্র’ নামের কোনো জিনিস আছে?

নেই। নাইজেরিয়াকে আমেরিকা হুমকি যেন মৌলবাদী ইউনুস সাহেবের সরকারকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। আমি আগাম বলেছিলাম, “ আমান সতর্কবার্তা!”

হ্যাঁ, সবচেয়ে মজার ব্যাপার, বৈঠকের টেবিলে যত লোক বসে, তাদের একটিও মুখে হাসি নেই। যেন কেউ কোনো গোপন পরাজয়ের চুক্তিতে স্বাক্ষর করছে।

সত্যি মুখগুলো দেখে মায়া হয়। বেচারা।

এই প্রথমবার নয়, বাংলাদেশ বহুবার “ভাইসুলভ অনুগত্য” দেখিয়েছে, কিন্তু এ যেন চূড়ান্ত স্বীকারোক্তি:
আমরা এখন এমন এক রাষ্ট্র, যার সীমান্তের ভেতরেও সিদ্ধান্ত নেয় সীমান্তের ওপার থেকে।

মেনে নিতে হবে। কারণ ভারত শুধু শক্তিশালী রাষ্ট্র নয় । ভারত আইনের দিক দিয়ে ঠিক জায়গায় আছে।

সবচেয়ে হাস্যকর বিষয়, এমন সিদ্ধান্তে সরকার যেমন খুশি, বিরোধীরাও তেমনি নিশ্চুপ। কারণ এখানে “দিল্লি সন্তুষ্ট” মানেই “রাজনীতি সফল।”

তাহলে কি পাকিস্তান এখানে পরাজিত? শুক্রবার এ সিদ্ধান্ত বাতিলের বিপক্ষে গনমিছিল হবে কি তাই মনে মনে ভাবছি।

হতেই পারে। কিন্তু লাভ নেই। ভারতের কথা অমান্য করে নাইজেরিয়ার আগে বাংলাদেশে বজ্রপাত হতে পারে।

A war is really needed now to protect Christians

Let it start from Nigeria. The most persecuted in the world are Jews and Christians. No war has yet been fought to protect Christians.

And if they are not protected, Christians around the world will be destroyed in the same way Buddhists were destroyed in Afghanistan.

So let it begin in Nigeria.

I demand that the United Nations and an independent international investigation team immediately go into the field; collect evidence and publish a report within 30 days, and impose targeted travel, asset and trade sanctions against the accused.

At the same time a safe corridor, temporary shelters and emergency medical supplies must be sent.

By empowering the media and civil society we will break the silence — we must fight this with legal, diplomatic and humanitarian blows, even to protect future generations.

Yes, according to the latest information, America is getting help from European countries on this, and Russia is giving tacit support.

Nigeria is still not accepting it.

But if Nigeria does not agree to all this within a few days, then, according to Trump’s Azur plan, let artificial lightning strikes be used on Nigeria to turn it into Gaza.