তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ এখনো কেন শুরু হয়নি জানেন?

কারণ পৃথিবীতে এমন একটি বাস্তবতা আছে যা শুনতে চমকে ওঠে। আপনিও চমকে উঠতে পারেন।

আসলে যে অস্ত্র মানুষকে শেষ করতে পারে, সেই অস্ত্রই এখন পৃথিবীকে বড় যুদ্ধ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে।

কি শুনতে অদ্ভুত লাগে?

অদ্ভুত লাগলেও বিষয়টা বাস্তব সত্যি।

আধুনিক বিশ্বরাজনীতির সবচেয়ে বড় বাস্তবতাগুলোর একটি ঠিক এই কথার মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

আজ পৃথিবীতে কয়েকটি রাষ্ট্র আছে, যাদের হাতে এমন অস্ত্র রয়েছে যা কয়েক মিনিটের মধ্যে একটি শহরকে মানচিত্র থেকে মুছে দিতে পারে।

একাধিক দেশ যদি একই সঙ্গে এই অস্ত্র ব্যবহার করে, তাহলে শুধু শহর নয়—মানবসভ্যতার ভবিষ্যতই অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে।

এই ভয়ংকর বাস্তবতা থেকেই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি ধারণা তৈরি হয়, Mutually Assured Destruction।

শব্দগুলো শুনতে সাধারণ, কিন্তু অর্থ ভয়াবহ।

যদি দুটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে শেষ পর্যন্ত কেউই বাঁচবে না।

কারণ এক দেশ আঘাত করলে অন্য দেশও পাল্টা আঘাত করবে। আর সেই পাল্টা আঘাতের পর আবার প্রতিশোধ। শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষই ধ্বংস হয়ে যাবে।

অর্থাৎ যুদ্ধ শুরু করলেই নিজের দেশকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে।

এই কারণেই বড় শক্তিগুলো যতই একে অপরকে হুমকি দিক, শেষ মুহূর্তে তারা সাধারণত থেমে যায়।

এই বাস্তবতা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছিল Cold War সময়।

তখন পৃথিবীর দুই পরাশক্তি ছিল United States এবং Soviet Union।

তাদের মধ্যে ভয়াবহ অস্ত্র প্রতিযোগিতা ছিল। হাজার হাজার পারমাণবিক বোমা তৈরি হয়েছিল। তবুও তারা সরাসরি যুদ্ধ করেনি।

কারণ তারা জানত, একবার সেই যুদ্ধ শুরু হলে পৃথিবীর বড় অংশ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

তাই যুদ্ধ হয়েছে অন্যভাবে।

ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান, কোরিয়া—এসব জায়গা হয়ে উঠেছিল বড় শক্তিগুলোর প্রক্সি যুদ্ধের মঞ্চ।

আজও পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, ইউরোপে যুদ্ধ, এশিয়ায় শক্তির প্রতিযোগিতা—সবই চলছে।

তবুও বড় শক্তিগুলো এখনো সরাসরি একে অপরের বিরুদ্ধে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু করতে ভয় পায়।

এই কারণেই অনেক বিশ্লেষক এটাকে বলেন “Nuclear Deterrence” বা “Nuclear Peace”—যেখানে যুদ্ধের ভয়ই বড় যুদ্ধকে থামিয়ে রাখে।

পৃথিবীর ইতিহাসে হয়তো এটাই সবচেয়ে অদ্ভুত বাস্তবতা।

মানবজাতির সবচেয়ে ভয়ংকর অস্ত্রই এখন পর্যন্ত মানবজাতিকে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ থেকে দূরে রেখেছে।

কিন্তু প্রশ্নটা এখনো রয়ে গেছে, এই ভারসাম্য কতদিন টিকবে? ইরানের প্রশ্নে বিষয়টি আলাদা হতে পারে বলে অনেকেই আশংকা প্রকাশ করছে।

Leave a Reply