দুই রাজার দুই ছবি। পার্থক্য কি?

ছবি দুটি এই সপ্তাহের ভাইরাল ভিডিও ক্লিপ থেকে স্ক্রীনশট নিয়েছি। ছবির দুই জনই আমার খুব প্রিয়। আমি তাদের ভক্ত। সন্মান এবং শ্রদ্ধা করি।

দুটি ছবিই বলে দিচ্ছে দুই রাজার বর্তমান অবস্থান। একটা বীরত্বের আর আরেকটা .. বলতে পারছি না। খুব দ্বিধা বোধ করছি। বলতে পারলে তৃপ্তি পেতাম। পারছি না।

এই দ্বিধাবোধ হওয়ার কারণ আমাদের চাকমা রাজা মহাশয় দায়ী নন। আমরা দায়ী। তাকে আমরা এই অবস্থায় ফেলে দিয়েছি। লজ্জাবোধ আমাদের থাকা উচিত।

ঘরে সম্মান দিলে বাইরে সম্মান থাকে। আজ তিনি অন্য রাজ্যে গিয়ে নিজের রাজ সম্মান ভুলে সমস্যার কথা স্বীকার করতে বাধ্য হলেন। চাকমাদের দুর্বলতা বেরিয়ে এল। এই দুর্বলতা কি বীরত্বের?

গলা কাটা বীরত্ব।

রাজাবাবুর সমাধান মেনে নিলে আজ সব সমাধান হত। অনেকে মেনে নিতে পারে নি। রায় যে হোক না কেন ত্যাগের নামে বিভাজন কাম্য নয়।

জাতির আজ মৃত্যুর পরে কী হবে, তার চেয়ে কিভাবে নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখবে—সেই বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অথচ আজ অলীক কিছু নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে জাতি নিজের রাজাকে পর্যন্ত পরের কাছে মাথা নত করে অসহায়ত্ব দেখাতে বাধ্য করছে।

মৃত্যু থেকে কেউ ফিরে এসেছে? স্বর্গ থেকে কেউ ফিরে এসেছে? নরক থেকে কেউ ফিরে এসেছে? তাহলে এ নিয়ে এত বাড়াবাড়ি কেন?

ধর্ম প্রয়োজন। তবে ধর্ম প্রয়োজন যখন একটি জাতি শান্তিতে থাকে। যখন অস্তিত্বের সঙ্কট থাকে না তখন ধর্ম লাগে। অস্তিত্ব যেখানে সঙ্কটে সেখানে ধর্ম একটি অলিক বিষয়।

আজ আমাদের রাজা যাদের দ্বারা বিদেশের মাটিতে নিজের মাথা নত করছেন তারা কি তার মত শিক্ষিত? আমরা যদি একজন অশিক্ষিত মানুষের ভ্রান্ত কথায় চলি তাহলে এত কষ্ট করে এত লেখাপড়া করার দরকার কি?

পাহাড়ে অনেক শিক্ষিত আছেন তারাও আজ এই বেড়াজালে মত্ত। আমার আফসোস হয় তাহলে আপনারা এত বছর শিক্ষায় অপচয় করলেন কেন যদি যারা কিছু পাস করে নি তাদের কথায় চলেন?

অনেকে বলে বনদের এসব বিষয় ঠিক নয়। তাহলে বয়কটের ডাক দেন না কেন? যা ঠিক নয় তা নিজেও বর্জন করা এবং সমাজকে বুঝানো দরকার যে এটা ঠিক নয়।

অনেক বলার আছে। কিন্তু শেষ হবে না। তবে এটুকু বলে রাখি, মিয়ানমার বা থাইল্যান্ড থেকে এসে আমাদের সমস্যা সমাধান করে দিতে পারবে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে সিদ্ধান্ত আসুক না কেন পাহাড়ের সমাজ যদি শক্ত পদক্ষেপ না নেয় বরাবর সেই সমস্যা থাকবে। সিদ্ধান্ত যে দলের বিপক্ষে যায় সে দল বলবে তারা সেই রায় মানে না।

এজন্য পাহাড়ের সমাজকে এ বিষয়টি নিজেদেরই সমাধান টানতে হবে।

দয়া করে, নিজেদের রাজাকে পরের দেশে এভাবে আর যাতে মাথানত করতে না হয় সে বিষয়ে সতর্ক হন। আমাদের রাজাও যেন বিদেশে গর্ব করে কথা বলতে পারে সে বিষয়ে আমাদের মনযোগী হতে হবে।

ত্রিপুরা মহারাজা থেকে শিখুন। ত্রিপুরা রাজ্যের লোক থেকে শিখুন কিভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়। ধর্ম নয় ঐক্য, স্বর্গ~নরক নয় অধিকারই বেঁচে থাকার একমাত্র সাধনা 🙏

Leave a Reply