আজ তেহরানের আকাশে আগুন: ইসরায়েলের হামলায় ইরানের দুই শীর্ষ সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত

১৫ মার্চ ২০২৬। তেহরানের আকাশে আবার আগুনের আলো দেখা গেল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তেহরানে চালানো লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলায় ইরানের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের দুই শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছে।

নিহত কর্মকর্তারা হলেন মেজর জেনারেল আবদুল্লাহ জালালি-নাসাব এবং কর্মকর্তা আমির শরিয়াত। তারা ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ গোয়েন্দা ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং তেহরানেই হামলার লক্ষ্য হন।

এর আগেও একই ইউনিটের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সালেহ আসাদি ইসরায়েলের প্রথম দফার হামলায় নিহত হয়েছিলেন।

ফলে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সামরিক গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর ধারাবাহিক আঘাত পড়ছে।

হামলার কিছুক্ষণ পর ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সতর্ক সংকেত বেজে ওঠে। লোদ শহরে আগুন লাগে এবং বেনেই ব্রাক এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষ পড়ে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে বলে জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ১০ হাজারের বেশি বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং ৭,৬০০টির বেশি হামলা চালানো হয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ৪,৭০০ হামলা সরাসরি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অস্ত্র অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে।

সামরিক সূত্রের দাবি, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ ইরানি সেনা ও কমান্ডার নিহত হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের নৌ-মাইন সক্ষমতা ধ্বংসে অভিযান বাড়িয়েছে, যাতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। তেহরান থেকে ভূমধ্যসাগর—সবাই বুঝতে শুরু করেছে, এই সংঘাত এখনো শেষ নয়; বরং এর পরবর্তী অধ্যায় শুরু হতে পারে যেকোনো সময়।

ইরানের পতন কি তাহলে প্রহর গুনছে?

ইরান আসলে ইসরাইলকে চিরতরে মুছে দিতে চেয়েছিল। তবে কি ইরান নিজেই মুছে যেতে চলেছে?

Leave a Reply