
খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের নির্বাচনকে অনেকেই আবেগ দিয়ে দেখছেন। কিন্তু এই নির্বাচন আসলে একটি সরল অঙ্ক। সংখ্যা বুঝলেই সমীকরণ পরিষ্কার হয়ে যায়।
এই আসনে মোট ভোটার প্রায় ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬৮৮ জন। ২০২২ সালের আদমশুমারির অনুপাত ধরলে বোঝা যায়, বাঙালি ভোটার প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার, চাকমা প্রায় ১ লাখ ৩৩ হাজার, ত্রিপুরা প্রায় ৭৫ হাজার এবং মারমা প্রায় ৫৬ হাজারের মতো। এগুলো আনুমানিক হিসাব, তবে রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার জন্য যথেষ্ট।
এখন অঙ্কটা দেখি।
ধরা যাক ত্রিপুরা ভোটের ৪০ শতাংশ পাল্লায় যায়, ৪০ শতাংশ ধানে যায় এবং ২০ শতাংশ ফুটবলে যায়। তাহলে ৭৫ হাজার ত্রিপুরা ভোটের মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার পাল্লা, ৩০ হাজার ধান এবং ১৫ হাজার ফুটবল পেতে পারে।
মারমা ভোট যদি ৬০ শতাংশ ধানে যায় এবং ৪০ শতাংশ পাল্লায় যায়, তাহলে ৫৬ হাজার মারমা ভোটের মধ্যে প্রায় ৩৩ হাজার ধান এবং ২২ হাজার পাল্লা পেতে পারে।
চাকমা ভোট এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যদি ১ লাখ ৩৩ হাজার চাকমা ভোটের বড় অংশ ধানের বাইরে যায়, ধরা যাক অর্ধেক ফুটবল বা পাল্লায় যায় তাহলে ধানের ঘাটতি তৈরি হবে। উদাহরণ হিসেবে যদি চাকমা ভোটের ৫০ শতাংশ ফুটবলে যায়, ৩০ শতাংশ পাল্লায় যায় এবং ২০ শতাংশ ধানে যায়, তাহলে ফুটবল প্রায় ৬৬ হাজার, পাল্লা প্রায় ৪০ হাজার এবং ধান প্রায় ২৬ হাজার পাবে।
সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর বাঙালি ভোট। যদি ২ লাখ ৭৮ হাজার বাঙালি ভোটের মধ্যে ধান ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশের বেশি না পায়, তাহলে সেটি প্রায় ৮৩ থেকে ৯৭ হাজার ভোটের মধ্যে সীমিত থাকবে। বাকি ভোট পাল্লা ও ফুটবলের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে।
এই হিসাব একত্র করলে দেখা যায়—ধান যদি বাঙালি ভোটে বড় ব্যবধানে এগোতে না পারে এবং চাকমা ভোটে ক্ষতি হয়, তাহলে জেতা কঠিন হয়ে যায়। পাল্লা যদি বাঙালি ভোটের বড় অংশ পায় এবং পাহাড়ি ভোটের একটি অংশও পায়, তাহলে সে এগিয়ে যেতে পারে। আর ফুটবল যদি চাকমা ভোটের বড় অংশ পায় এবং ত্রিপুরা ভোটের অংশ ধরে রাখতে পারে, তাহলে সে-ও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবে।
অর্থাৎ এই নির্বাচনের মূল সমীকরণ দুটি জায়গায়। এক, বাঙালি ভোট কতটা একদিকে যায়। দুই, পাহাড়ি ভোট কতটা একত্র হয়।
এই আসনে কেউ এককভাবে খুব বড় ব্যবধানে এগিয়ে নেই বরং ভোটের বিভাজনই ফল নির্ধারণ করবে। অঙ্ক বলছে, ভোট যত বেশি ভাগ হবে, ফল তত অনিশ্চিত হবে। আর যদি কোনো একটি পক্ষ পাহাড়ি ভোটে সামান্য হলেও ঐক্য আনতে পারে, তাহলে পুরো ফলাফল বদলে যেতে পারে।
শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভোটের দিন কার সমর্থক বেশি কেন্দ্রে যায়। আবেগ নয়, এবার খাগড়াছড়ির নির্বাচন নির্ধারণ করবে সংখ্যা।
তবে যদি, চাকমা ভোটের ৫০ শতাংশ না হয়ে ৬৫ শতাংশ, বাঙালি ভোটের ৫ শতাংশ এবং মারমা ভোটের ১০ শতাংশ “বল” প্রতীকে আসে তাহলে হিসাব পুরো বদলে যায়। সে ক্ষেত্রে বল প্রতীক প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ভোটের ভিত্তি পায়, যা একটি ত্রিমুখী লড়াইয়ে তাকে এগিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
তবে এটিই চূড়ান্ত ফল নয়। কারণ তিনটি বিষয় এখনও অনিশ্চিত—ভোটের দিন মোট টার্নআউট কত হবে, ত্রিপুরা ভোট কোনদিকে বেশি যাবে, এবং বাঙালি ভোট ৫ শতাংশেই সীমিত থাকবে নাকি ৮–১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। এই তিনটির যেকোনো একটিতে পরিবর্তন এলে সমীকরণও পাল্টে যেতে পারে।
অর্থাৎ অঙ্ক অনুযায়ী বল প্রতীক বর্তমানে এগিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু জয় নিশ্চিত নয়। পাল্লা এখনও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী, বিশেষ করে যদি বাঙালি ভোটের বড় অংশ তার দিকে যায়। আর পাহাড়ি ভোট যদি একদিকে পুরোপুরি একত্র না হয়( যদি পাল্লা আর ধানের শীষে না পড়ে ঘোড়ায় পড়লে সমস্যা নেই। তবে বলে পড়লে আরো বল শক্তিশালী) তাহলে ব্যবধান আরও কমে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, খাগড়াছড়ি-২৯৮ এখন আর একতরফা লড়াই নয়। এখানে ফল নির্ধারণ করবে ভোটের ভাগাভাগি, উপস্থিতি এবং শেষ মুহূর্তের সমীকরণ। আবেগ নয়, এই নির্বাচনে শেষ কথা বলবে সংখ্যা।
বিদ্রঃ আমি কারো পক্ষে নই। পোস্টটি পুড়ুন এবং চিন্তা করুন। বাস্তবতা আছে কিনা বলুন। চাকমাদের মধ্যে কি ১৫ হাজার বিএনপি আছে? তাহলে চাকমাদের ৩৫% বাদ যাবে না। গত ৩৬ ঘণ্টার ফল আমি প্রকাশ করি নি। কারণ বিষয়টি স্পর্শকাতর। একজন বিশিষ্ট নেতার এক বিন্দু হঠাৎ মুখ থেকে সত্য খচে পড়লে খারাপ না হয়ে ভাল হয় বলা যায়। সবায়কে ধন্যবাদ।)

