পাহাড় কি তার ভুলের ইতিহাস লিখতে প্রস্তুত?

পাহাড় কি তার ইতিহাস

গত তিন মাসে পাহাড়ের পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত যেন শেষের পথে। পাহাড়ে আদিবাসীদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য দল গঠিত হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই পাহাড় দু’বার গৃহযুদ্ধের মতো ভয়ংকর দৃশ্য দেখেছে।

আর যেন তৃতীয়বার এই ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত পাহাড়কে দেখতে না হয়—জুম্ম জাতি সে বিষয়ে সজাগ থাকবে, এটা আমরা সবাই নিশ্চয়ই কামনা করি।

কিন্তু কিভাবে?

অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে। কিন্তু ইতিহাস না থাকলে আগামী প্রজন্ম শিখবে কীভাবে?

এই কারণেই ভাবছি, কিছু লেখা যায় কি না। কিন্তু এমন বিষয়ে লিখতে হলে তথ্য দরকার। আবেগ দিয়ে ইতিহাস লেখা যায় না।

চুক্তির পর এই সংঘাত কীভাবে শুরু হলো, নাকি তারও আগে থেকেই এর বীজ ছিল—এ বিষয়ে পাহাড়ের প্রায় ৯৯% মানুষই পরিষ্কারভাবে জানে না। আমি চেষ্টা করছি বিষয়টি অনুসন্ধান করার। কাউকে দোষী করা বা কাউকে ভালো প্রমাণ করার জন্য নয়। বরং সমস্যা কোথায় ছিল, ভুল-বোঝাবুঝি কেন তৈরি হলো, এবং কীভাবে সেই সংঘাত জন্ম নিল—এসব নিরপেক্ষভাবে শুনে ও বুঝে লিখতে চাই।

অনেকে আমাকে বলেছেন, এ বিষয়গুলো খোলাখুলি পোস্ট না করাই ভালো। তাদের কথা অযৌক্তিক নয়। কিন্তু এটাও তো সত্য যে পাহাড়ের ভ্রাতৃসংঘাত কোনো গোপন বিষয় নয়। সবাই জানে, সবাই দেখেছে। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। আমার মনে হয় এই অধ্যায় শেষের দিকেই চলে এসেছে—এক কথায় বললে, শেষ হয়ে গেছে বললেও খুব ভুল হবে না।

যারা এখনো স্রোতের বিপরীতে আছেন, তাদেরও একসময় ফিরে আসতে হবে। মতপার্থক্য হয়, আবার সমাধানও হয়। আমাদের পাহাড়েও তেমনটাই হয়েছে। সময় ধীরে ধীরে অনেক কিছু ভুলিয়ে দেয়।

কিন্তু তবুও এই ইতিহাস লিখে রাখা দরকার। কারণ ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য ইতিহাসের দরকার হয়।

পৃথিবীর অন্যতম দীর্ঘ ইতিহাস আছে ইসরায়েলের ইহুদি জাতির। পুরো বাইবেলই মূলত তাদের ইতিহাসের একটি বড় দলিল। সেখানে তাদের ভুলও আছে, সঠিক সিদ্ধান্তও আছে—কিছুই লুকানো হয়নি। তাই তারা সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

পাহাড়ও যদি শুধু ভালো ঘটনাগুলো লিখে রাখে কিন্তু ভুলগুলো মুছে ফেলে, তাহলে ভবিষ্যতে আবার বড় সমস্যা হতে পারে। তাই ইহুদিদের মতোই আমাদের ইতিহাসেও সঠিক-ভুল সবকিছুই থাকা দরকার—যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সেখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

কিন্তু এই কাজ করতে হলে আপনাদের সবার সহযোগিতা দরকার।

এই বিষয়ে একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলার কথা ভাবছি। সেখানে হয়তো কিছু বিষয় খোলাখুলি লেখা যাবে না। সেক্ষেত্রে দয়া করে সরাসরি আমার ইমেইলে পাঠিয়ে দিতে পারেন।

অবশ্যই চাইলে আমাকে ফেসবুকেও মেসেজ দিতে পারেন।

Leave a Reply