দীর্ঘ সাত ঘণ্টার বৈঠক, টেবিলে ফুলের মালা, সামনে বোর্ডে আরবি কালেমা আর চারদিকে গম্ভীর মুখ।অবশেষে বাংলাদেশ সাহসিকতার সঙ্গে ঘোষণা করল, “জাকির নায়েক আপাতত ঢাকায় আসতে পারবেন না।”
এই এক সিদ্ধান্ত নিতেই যেন জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন যুদ্ধ লড়া হলো!
কেউ বলল, তিনি এলেই লাখো মানুষ ভিড় করবে, কেউ বলল নিরাপত্তা দেবে কে, সবাই এখন তো “নির্বাচনমুখী”! যেন নায়েক ঢাকায় নামলেই পুরো দেশ গিলে ফেলবেন!
আমার বড্ড হাসি পাই।
তবুও এই সিদ্ধান্তের ভেতরে এক মহান রাজনৈতিক সাফল্য লুকিয়ে আছে , ভারত যা চেয়েছিল, বাংলাদেশ সেটাই করতে বাধ্য হল।
মানে, বাংলাদেশ স্বাধীন, সার্বভৌম, কিন্তু সার্বভৌমত্ব ব্যবহারের আগে দিল্লির অনুমতি লাগে।
এই দৃশ্য দেখে মনে হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন এক কথায় সংক্ষিপ্ত করা যায়: “ভারত মাতা বলতে হবে, না বললে কোন কাজ করা যাবে না”- মৌলবাদী সরকার যতই ভারতের বিরুদ্ধে তর্জন গর্জন করুক।
যে দেশে একটা বক্তা ঢুকবে কিনা, সেটা নিয়েও বৈঠক করতে হয় সেই দেশে কি সত্যিই ‘রাষ্ট্র’ নামের কোনো জিনিস আছে?
নেই। নাইজেরিয়াকে আমেরিকা হুমকি যেন মৌলবাদী ইউনুস সাহেবের সরকারকে কাঁপিয়ে দিয়েছে। আমি আগাম বলেছিলাম, “ আমান সতর্কবার্তা!”
হ্যাঁ, সবচেয়ে মজার ব্যাপার, বৈঠকের টেবিলে যত লোক বসে, তাদের একটিও মুখে হাসি নেই। যেন কেউ কোনো গোপন পরাজয়ের চুক্তিতে স্বাক্ষর করছে।
সত্যি মুখগুলো দেখে মায়া হয়। বেচারা।
এই প্রথমবার নয়, বাংলাদেশ বহুবার “ভাইসুলভ অনুগত্য” দেখিয়েছে, কিন্তু এ যেন চূড়ান্ত স্বীকারোক্তি:
আমরা এখন এমন এক রাষ্ট্র, যার সীমান্তের ভেতরেও সিদ্ধান্ত নেয় সীমান্তের ওপার থেকে।
মেনে নিতে হবে। কারণ ভারত শুধু শক্তিশালী রাষ্ট্র নয় । ভারত আইনের দিক দিয়ে ঠিক জায়গায় আছে।
সবচেয়ে হাস্যকর বিষয়, এমন সিদ্ধান্তে সরকার যেমন খুশি, বিরোধীরাও তেমনি নিশ্চুপ। কারণ এখানে “দিল্লি সন্তুষ্ট” মানেই “রাজনীতি সফল।”
তাহলে কি পাকিস্তান এখানে পরাজিত? শুক্রবার এ সিদ্ধান্ত বাতিলের বিপক্ষে গনমিছিল হবে কি তাই মনে মনে ভাবছি।
হতেই পারে। কিন্তু লাভ নেই। ভারতের কথা অমান্য করে নাইজেরিয়ার আগে বাংলাদেশে বজ্রপাত হতে পারে।