২০২৫ সালে নিউ ইয়র্কে দ্বিতীয়বার হামলা

নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের
নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (দূর থেকে এবং নিচ থেকে)

শিরোনাম শুনে ভয়ে আঁটকে উঠলেন?

হ্যাঁ, আজ নিউ ইয়র্কে বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৫। বলা যায় আরেকবার নিউ ইয়র্কে হামলা হয়েছে। ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার মাত্র দু’ দশক পরে এই নিউ ইয়র্ক শহরে প্রথম মুসলিম মেয়র পদে নির্বাচিত হলেন।

বিস্ময় বলে কিছু নেই। আমেরিকা হয়তো বিদেশে মৌলবাদী সন্ত্রাসীর সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হয় কিন্তু ২০২৫ সালে নিজের ঘরে সন্ত্রাসীদের কাছে পরাজয় বরন করে নিলেন। ইতিহাস বড়ই নির্মম।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ঘটে যায় এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে, আমেরিকান এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১১ নামের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর টাওয়ারে আঘাত হানে।

তার মাত্র ১৭ মিনিট পর, সকাল ৯টা ০৩ মিনিটে, আরেকটি ছিনতাই করা বিমান — ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ফ্লাইট ১৭৫ — আঘাত করে দক্ষিণ টাওয়ারে। মুহূর্তেই দুই টাওয়ারে আগুন জ্বলে ওঠে, বিস্ফোরণ ঘটে, এবং হাজার হাজার মানুষ আটকে পড়ে ভেতরে।

সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে, আরেকটি বিমান (ফ্লাইট ৭৭) আঘাত হানে ওয়াশিংটনের পেন্টাগন ভবনে যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। আর চতুর্থ বিমানটি (ফ্লাইট ৯৩) ওয়াশিংটনের দিকে যাচ্ছিল, কিন্তু যাত্রীরা সাহসিকতার সঙ্গে ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করেন, ফলে সেটি পেনসিলভানিয়ায় মাঠের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়।

সকাল ১০টা ০৫ মিনিটে দক্ষিণ টাওয়ার এবং ১০টা ২৮ মিনিটে উত্তর টাওয়ার সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে দুইটি গগনচুম্বী ভবন মাটির সঙ্গে মিশে যায়।

সেদিন মোট ২,৯৭৭ জন মানুষ নিহত হন সাধারণ কর্মজীবী মানুষ, দমকলকর্মী, পুলিশ, এবং উদ্ধারকারী দলসহ। এটি মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলাগুলোর একটি।

কেন ভেঙে পড়েছিল ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার?

১. বিমান আঘাত:

দুইটি বোয়িং ৭৬৭ যাত্রীবাহী বিমান ভবনের মধ্যভাগে আঘাত করে। বিমানগুলোতে ছিল প্রচুর জ্বালানি (jet fuel), যা বিস্ফোরণের সময় ভয়াবহ আগুনের সৃষ্টি করে।

২. অগ্নিকাণ্ড ও গলন:

বিমানবাহী জ্বালানির তাপে ভবনের স্টিল কাঠামো অত্যন্ত গরম হয়ে যায় (১,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত)। স্টিল সেই তাপে নরম হয়ে ভেতরের কাঠামোগুলো ভেঙে যায়।

৩. ভারসাম্য হারানো:

ভবনের উপরের অংশ নিচের তলায় ভেঙে পড়ে, ফলে একটি চেইন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তলা ধরে তলা ভেঙে পড়তে থাকে। একে বলে progressive collapse।

ফলাফল: কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিশাল টাওয়ার দুটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

কারা করেছিল এই হামলা?

এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল আল-কায়েদা (Al-Qaeda) নামের এক জঙ্গি সংগঠন।

এর নেতা ছিল ওসামা বিন লাদেন, যিনি পরে আফগানিস্তানে লুকিয়ে ছিলেন।

তারা দাবি করেছিল, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ ও নীতির প্রতিশোধ হিসেবে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

এরপর কি হয়েছিল?

  • যুক্তরাষ্ট্র “War on Terror” বা “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ” ঘোষণা করে।
  • ২০০১ সালের অক্টোবরে আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরু হয়, তালেবান সরকারকে সরাতে।
  • ২০১১ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ শহরে অভিযান চালিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে।
  • নিউ ইয়র্কে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে নতুন ভবন ওয়ান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার (Freedom Tower) নির্মাণ করা হয়, যা ২০১৪ সালে উদ্বোধন হয়।

একটি প্রতীকী বার্তা

৯/১১ শুধু আমেরিকার ওপর আঘাত ছিল না; এটি পুরো মানবতার ওপর আঘাত ছিল।

তবুও নিউ ইয়র্ক থেমে যায়নি। শহরটি ধ্বংসের মধ্য থেকেও উঠেছে নতুন ভবন, নতুন প্রজন্ম, আর নতুন আশার মাধ্যমে।

আজও যখন কেউ নিউ ইয়র্কের আকাশের দিকে তাকায়, তারা শুধু একটি শহর দেখে না — দেখে মানবতার শক্তি, বেঁচে থাকার সাহস, আর পুনর্জন্মের প্রতীক।

আপনি কি চান আমি পরের অংশে লিখি, “কিভাবে ৯/১১-র পর নিউ ইয়র্ক আবার ঘুরে দাঁড়াল” — যেখানে বলব অর্থনীতি, স্থাপত্য, ও মানুষের মনোবল কীভাবে বদলেছিল?

কিন্তু আজ শুধু আমেরিকার সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট নয় বরং সমস্ত আমেরিকা আজ নিজের দেশে পরাজিত হল। জোহরান মামদানি আজ বিশাল ভোটে নিউ ইয়র্কে জয় লাভ করেছেন। ট্রাম্প বিরোধী দলের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েও জোহরান মামদানি পরাজয় ঘটাতে পারলেন না। এটা নিঃসন্দেহে এক করুন পরাজয়।

তাই ২০২৫ সালে নিউ ইয়র্কে দ্বিতীয়বার হামলা বলা যায়।

Leave a Reply