মৌলবাদ

লক্ষনগুলো আসলে আলাদা-আলাদা “সমস্যা” নয়—একটাই রোগের অসংখ্য উপসর্গ। আর রোগটির নাম মৌলবাদ।

যেখানে মৌলবাদ দানা বাঁধে, সেখানে মানুষের পরিচয় ছোট হয়ে আসে, বিশ্বাস সংকুচিত হয়ে যায়, আর ভিন্নতাকে শত্রু বলে মনে হয়। তখন ইহুদি, হিন্দু, শিয়া, কাদিয়ানী, আদিবাসী—সবাই আলাদা কোনো অন্যায় করেনি।

কিন্তু তবুও তারা “সমস্যা” হয়ে ওঠে শুধু কারণ তারা ভিন্ন।

আবার সঙ্গীত, নৃত্য, ভালোবাসা, বসন্ত, বাউল, রবীন্দ্রনাথ—এসবও কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু মৌলবাদী মানসিকতা ভিন্ন আনন্দ, ভিন্ন শিল্প, ভিন্ন উৎসবকে হুমকি বলে মনে করে।

মৌলবাদ যত বড় হয়, তালিকাও তত দীর্ঘ হয়।
ধর্মীয় ভিন্নতা “সমস্যা” হয়—
ইহুদি, হিন্দু, শিয়া, কাদিয়ানী, আহলে কোরান, আদিবাসী, ইসকন—সবাই।

সংস্কৃতি “সমস্যা” হয়—
মন্দির, মাজার, সুফি, সাধু, বাউল, রবীন্দ্রনাথ, লালন, রোকেয়া, জাহানারা—সবাই।

আনন্দ উদযাপন “সমস্যা” হয়—
ভালোবাসা, সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্র, নৃত্য, চলচ্চিত্র, পহেলা বৈশাখ, বাংলা নাম, বসন্ত, নাট্যোৎসব, ঘুড়ি উৎসব, চারুকলা, ভাস্কর্য, মূর্তি—সবই।

চিন্তা ও অধিকারও “সমস্যা” হয়—
যুক্তি, প্রশ্ন, মুক্তচিন্তা, মুক্তমনা, নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী, নারী, নারীর চাকরি, নারী অধিকার, পোশাক, নারী কমিশন—সবই।

ইতিহাসও রেহাই পায় না—
মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, একাত্তর, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সঙ্গীত—এসবও আক্রান্ত হয় একই সংকীর্ণতার কারণে।

সুতরাং এসবের মূল কারণ একটাই—
মৌলবাদ সেই দৃষ্টিভঙ্গি, যা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে অস্বীকার করে।

এটি সমাজকে শত্রু ও শত্রুহীন দুই ভাগে ভাগ করে, অভিন্ন ইতিহাসকেও সন্দেহে ভরিয়ে দেয়, আর স্বাধীনতার প্রতিটি চিহ্নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

যতক্ষণ মৌলবাদ টিকে থাকবে, ততক্ষণ তালিকাও লম্বা থাকবে।

মানুষ বদলাবে, নাম বদলাবে। কিন্তু “সমস্যা” নামের এই ফাইলগুলো কখনো বন্ধ হবে না।

সমাধান একটাই:

মৌলবাদ নয়—মানবতা।
ঘৃণা নয়—সম্মান।
অন্ধতা নয়—চিন্তা।

Leave a Reply