যার বিয়ে তার খবর নাই

শ্রীলঙ্কার রাস্তায় বৌদ্ধ ভিক্ষুরা স্লোগান দিচ্ছে, “Protect Buddhists & Hindus in Chittagong Bangladesh!”

আর ঢাকায় আমাদের ভিক্ষুরা এই সময় নতুন গাড়ির শোরুমে টেস্ট ড্রাইভ নিচ্ছে। মনে হচ্ছে, যার বিয়ে তার খবর নাই, পাড়ার লোক রাত জেগে নাচছে।

পাহাড়ে মানুষ পুড়ছে, নারী লাঞ্ছিত হচ্ছে, গ্রাম উজাড় হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ভিক্ষুরা এখন ব্যস্ত কে কার কাছ থেকে কত কোটি চীবর দান পাবে তা গণনা করে।

তাদের ধ্যান এখন ভিক্ষার চেয়ে বেশি ‘প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট’-এর মতো—স্প্রেডশিটে করুণা, আর ফাইলে ধর্ম।

আজ পাহাড় পাহারা দেয় বন্দুকধারী, আর ধর্ম পাহারা দেয় কাষায়ধারী। দু’জনেরই লক্ষ্য এক, ‘শান্তি রক্ষা’।
একজন বন্দুক দিয়ে, আরেকজন নীরবতা দিয়ে।

টেলিভিশনে তারা শান্তির গান গায়, পত্রিকায় হাসিমুখে চীবর দান দেয়, যেন আগুনের দেশে এখনো বসন্ত চলছে।

মিডিয়াও তেমনই নির্বিকার—পাহাড় পুড়লে ক্যামেরা ঘোরে না। কিন্তু জাতীয় কঠিন চীবরদানে টিভি পর্দা যেন থামে না। পত্রিকার খবর শেষ হয় না। ঊৎসব আর উপভোগ।

দেশে আগুন লাগিয়ে কেউ বিদেশে গিয়ে শান্তিরক্ষী হয়,
মন্দিরে নীরব থেকে কেউ হয়ে যায় ‘ধর্মরক্ষী’। দু’জনের কাজই এক, “শান্তি বিক্রি করে বাঁচা।”

বুদ্ধ করুণা শিখিয়েছিলেন, কিন্তু তারা করুণা বিক্রি করছে। বুদ্ধ অন্যায়ের সামনে নীরব থাকেননি।কিন্তু তারা নীরবতাকেই সাধনা বানিয়েছে। যেন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কই এখন নির্বাণের রাস্তা।

তবু দেখুন, দূরে শ্রীলঙ্কার ভিক্ষুরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আমাদের জন্য চিৎকার করছে যেন লজ্জার আয়না হাতে ধরে বলছে, “হে বাংলাদেশের ভিক্ষুগণ, তোমরা কোথায়?”

ধর্মের নাম যদি দামি গাড়ি, আইফোন, আর সরকারি বাজেটের প্রতিযোগিতায় চুপ থাকা হয়, তবে ওটা আর ধর্ম নয়—ওটা বেইমানির নীরব সংস্করণ।

যে ধর্ম নিজের সন্তানদের কান্না শুনতে পায় না, শুনলে পাপ হয় সে ধর্মের পতাকা যতই উঁচুতে ওড়ে, ভেতরে ততই শূন্যতা জমে।

একদিন সেই শূন্যতা থেকেই একটি প্রশ্ন তীব্র হয়ে উঠছে, “পাহাড় পুড়ছে, আর তোমরা ধ্যান করছো —কিসের জন্য?”

(নোটঃ পোস্টটি বন ও দালালদের উৎসর্গ করলাম।)

Leave a Reply