ইতালি থেকে বাংলাদেশী সেটলার প্রত্যাহার

ইতালি পারবত চট্টগ্রাম নয় ইচ্ছে মতো কালচার হাইজেক করবে। এটা ভিন্ন। তাই সেটলার প্রত্যাবর্তন শুরু হবে ইতীলি টু বাংলাদেশ।

ইতালির ছোট্ট শহর মনফালকনে হঠাৎই ইউরোপের ইসলামিক রাজধানী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছিল যতক্ষণ না ইতালির প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য হারিয়ে ঘোষণা দিলেন, “ইতালিকে ইসলামিকরণ করতে দেওয়া হবে না!”

বস্তুত, ৮ হাজার বাংলাদেশি মুসলমান মিলে এমন এক সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটিয়েছেন, যাতে শহরের মেয়র থেকে শুরু করে স্থানীয় পুলিশ পর্যন্ত নামাজের সময়সূচি মুখস্থ করে ফেলেছিল—শুধু ভয় পেয়ে!

ডয়চে ভেলের সাংবাদিক আরাফাত গেছেন সেখানে এবং দুই হিজাবী নারীকে জিজ্ঞেস করলেন, “সবাই আপনাদের উপর রেগে আছে কেন?”

উত্তরটা শুনে ইতালির ক্যাফেগুলোর এসপ্রেসোও থেমে গেল, “আসলে… কিছু দোষ আমাদেরও… মসজিদের অনুমতি ছিল না…”

অর্থাৎ, ইউরোপে আইনের অনুমতি না নিয়েই মসজিদ বানানো গেছে, নামাজও পড়া গেছে, তবু কেউ কিছু বললে সেটা হয়ে যায় ‘বিদ্বেষ’।

এ যেন সেই পুরোনো কৌশল, ‘আমি ভুল করেছি, কিন্তু তুমি নিন্দুক কেন?’

একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশি মানেই পরিশ্রমী অভিবাসী। এখন ইউরোপে বাংলাদেশী নাম শুনলেই অনেকে জিজ্ঞেস করে, “আপনারা কি কালচার সেন্টার বানান?”

কারণ, এখন আমাদের নতুন প্রবাসী পরিচয়: “বাংলাদেশ থেকে এসেছি, ইসলামিক কালচার এক্সপোর্ট করি!” অবশ্য কষ্ট করে সত্য কথাটা কেউ বলে না—সৌদি বা পাকিস্তানে ইসলাম স্থাপন করলে পাসপোর্ট ঝামেলা হয়, তাই ইউরোপই নিরাপদ!

ইতালিতে ক্রিকেট পর্যন্ত বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ?

মাঠে দেখা গেছে খেলোয়াড়রা ছক্কা মারার পর ‘আল্লাহু আকবর!’ চিৎকার করছে, আর উইকেট পড়লে বলছে ‘ইনশাআল্লাহ’।

আম্পায়ারও বিভ্রান্ত—এটা ম্যাচ নাকি ওয়াজ মাহফিল!
ফলাফল: শহর পরিষদ বলেছে, “খেলা বন্ধ, নইলে পরের ম্যাচে হয়তো খুতবা শুরু হবে।”

এখন ইউরোপের প্রধানমন্ত্রীদের জন্য নতুন কোর্স শুরু হয়েছে, “How to say No to Islamisation Politely.”
প্রথম ক্লাসে শেখানো হয়—‘না’ বলার পর যেন ‘বিদ্বেষ’ শব্দটা যোগ না হয়।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী এই কোর্সে গোল্ড মেডেল পেয়েছেন; তিনি বলেছেন, “আমরা ইসলামবিদ্বেষী নই, আমরা শুধু চাই ইতালিতে ইতালি থাকুক।”

অর্থাৎ, পাস্তা থাকবে, পিজ্জা থাকবে, নামাজ নয়।

লিবারেলরা এখনো ভাবছে, সবাইকে খুশি রাখা সম্ভব।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—ওরা এতটাই ভয় পায় যে, “Freedom of Expression” শব্দটার জায়গায় এখন লিখে রাখে “Freedom of Silence।”

কারণ, কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগাতে গিয়ে ওরা নিজেদের মেরুদণ্ড হারিয়ে ফেলেছে।

ইউরোপে এখন নতুন ট্রেন্ড—যে দেশে মসজিদ নেই, সেখানে ‘ইসলামিক কালচার সেন্টার’; আর যে দেশে মসজিদ আছে, সেখানে দাবি উঠছে, “আরও বড় মসজিদ চাই!”

এই সংস্কৃতি একদম “মোবাইল আপগ্রেড”-এর মতো—আগেরটা ভালো চললেও নতুনটা চাই!

কিন্তু একটা প্রশ্ন কেউ করে না, “বাংলা সংস্কৃতি গেল কোথায়? বাউল গান গেল কোথায়? রবীন্দ্রসংগীতের কণ্ঠ গেল কোথায়?

এরা বিদেশে গিয়ে নিজেদের পরিচয় খোঁজে না—শুধু ইসলামিক ব্যানারে নিজের মুখ ঢাকে। আর যখন ইউরোপ বলে “Stop”, তখন এরা বলে “বিদ্বেষ!”

আসলে এটা সংস্কৃতির লড়াই নয়—এটা অজ্ঞানতার প্রদর্শনী।

শেষে একটা প্রস্তাব, যদি ইসলামিক কালচার সেন্টার বানাতেই হয়, তাহলে সৌদি আরব বা পাকিস্তানেই যান।
কারণ, সেখানে আপনাদের কেউ বলবে না ‘বিদ্বেষ’।

শুধু একটা কথা মনে রাখুন, যেদিন পৃথিবীজুড়ে সবাই “একটাই সংস্কৃতি”র কথা বলবে, সেদিন পৃথিবী আর পৃথিবী থাকবে না, থাকবে একটাই বিশাল “ধর্মীয় কারাগার”, যার মাঝখানে থাকবে মাইক আর মগজ—দুটোই অতিরিক্ত গরম।

নোটঃ ইতালির প্রধানমন্ত্রী মেলেনীর ছবি সংগৃহীত।

Leave a Reply