
বাংলাদেশে এখন এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে—যেখানে সেনাবাহিনী শুধু পাহাড় পাহারা দেয় না, পাহাড়ের ব্যবসাও চালায়। একসময় তাদের হাতে ছিল বন্দুক, এখন হাতে ফাইল, ব্র্যান্ডিং গাইডলাইন আর বাজেট রিপোর্ট।
পাহাড়ের নিরবতা এখন শুধু প্রকৃতির নয়, সেটাও একটি লাইসেন্সকৃত সম্পদ। কে কোথায় দোকান বসাবে, কে পর্যটন চালাবে, কে নদীর ধারে চা বিক্রি করবে—সবকিছুর অনুমোদন আসে ইউনিফর্মের টেবিল থেকে।
কক্সবাজারে তারা একদিকে মানবিকতার মুখোশ পরে রোহিঙ্গাদের পাহারা দেয়, আর অন্যদিকে মাদক আর রাজনীতির সুতো টানে। পাহাড়ে সন্ত্রাস দমনের নামে যারা গিয়েছিল, তারাই এখন পর্যটন আর বাণিজ্যের নতুন মুখপাত্র।
একেকজন অফিসার যেন একেকজন সিইও—তাদের প্রকল্পের নাম শুধু পাল্টেছে, মনোভাব নয়।
সম্প্রতি বানিজ্য উপদেষ্টা গিয়েছিলেন সেনাবাহিনীর এক ফার্নিচার কারখানায়। ঝকঝকে টেবিল, চেয়ার, আলমারি দেখে তিনি মুগ্ধ।
বললেন, “চমৎকার! কিন্তু ট্যাঙ্ক বানান না?”
একজন অফিসার গর্বভরে জবাব দিলেন, “সেগুলোও বানাচ্ছি, স্যার।”
উপদেষ্টা ঠোঁট উল্টে বললেন, “দেখি না তো! নাকি সোফার নিচে লুকানো?”
এই দৃশ্য হয়তো মজার মনে হয়। কিন্তু এর পেছনে আছে এক ভয়ংকর সত্য হচ্ছে, একটা সেনাবাহিনী যখন যুদ্ধক্ষেত্রের বদলে শোরুমে সাফল্য খোঁজে, তখন দেশপ্রেমও পণ্যে পরিণত হয়। পাহাড়ের মানুষ তখন বুঝতে পারে, তাদের ওপর দাঁড়ানো ক্যাম্পটা শুধু সামরিক না, অর্থনৈতিকও।
সবচেয়ে যন্ত্রণার হলো, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ আজ নিজের জীবন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তারা কী খাবে, কোথায় যাবে, এমনকি কোন রাস্তায় হাঁটবে—তাও যেন কেউ আগে থেকে ঠিক করে দেয় সেনা।
পাহাড়ের মানুষ আজ নিজের মাটিতেই বন্দি, নিজের ভাষায় নির্বাক। সেনাবাহিনী এখন শুধু দেশের সংখ্যালঘু ও পাহাড়ের আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের যন্ত্র নয়, বরং রাষ্ট্রীয় টাকা বানানোর মেশিনে রূপ নিয়েছে।
একটা বাহিনী যখন পেশাদারিত্ব হারিয়ে ব্যবসার হিসাব করে, তখন রাষ্ট্রও ধীরে ধীরে বাজারে পরিণত হয়। “নিরাপত্তা” তখন আর প্রতিরক্ষা নয়, বরং বিনিয়োগ কৌশল। ফার্নিচার, সিমেন্ট, তেল, দুধ—এসব বানানোর জন্য কি সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছিল? নাকি এখন নতুন নীতি হলো, “Defence Through Domestic Product”?
যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে শিগগিরই দেখা যাবে, “বাংলাদেশ আর্মি প্রেজেন্টস: কৌশলগত দুধ ও সামরিক পালং শাক—দেশপ্রেমের গ্যারান্টি সহ!” দেশ কি সব সেনা দখল নিল?