ওয়াকার কি সত্যিই বন্দি, নাকি আমরা সবাই অভিনয়ে ব্যস্ত?

ওয়াকার-কি-বন্দি
ওয়াকার-কি-বন্দি?

বাংলাদেশে এখন খবর তৈরি হয়, কিন্তু কেউ বলে না কে বানায়। গুজব ওঠে, আবার কেউ জানে না কোথা থেকে। কেউ বলে সেনাপ্রধান ওয়াকার বন্দি, কেউ বলে তিনি গৃহবন্দি, আবার কেউ বলে, না, তিনি ব্যস্ত “গোপন বৈঠক” নিয়ে, যেন নেটফ্লিক্সের নতুন সিরিজের শুটিং চলছে।

অদ্ভুত এক সময়। সেনাপ্রধান একদিন খবরের শিরোনাম ছিলেন, আজ তিনি গুগলের সাজেস্টেড সার্চ। অফিসে নেই, সভায় নেই, টেলিভিশনে নেই—শুধু ইউটিউবের থাম্বনেইলে আছেন। “বন্দি ওয়াকার”, “ওয়াকারের বিচার”, “ওয়াকার ও ৫৬ জেনারেল”—এইসব শিরোনাম দেখে মনে হয় কেউ যেন সেনাসদরের ভেতরেই গসিপ ম্যাগাজিন চালাচ্ছে।

সরকার নীরব, সদর দপ্তর নীরব, আর জনগণ কথা বলছে দাঁত চেপে। যেন সবাই একই নাটকের আলাদা চরিত্র—একজন ‘অদৃশ্য সেনাপ্রধান’, একজন ‘নীরব মন্ত্রী’, আর আমরা দর্শক, যারা প্রতিদিন ভেবে দেখি—আজকের পর্বে কে বেঁচে থাকবে?

সত্যি বলতে কি, এখন রাষ্ট্রে এমন এক নীরবতা নেমেছে, যেন কারফিউ নয়, ভয়ফিউ। কেউ কিছু বলে না, তবু সবাই জানে কিছু একটা ঘটেছে। কিন্তু কে কাকে ঘটিয়েছে, সেটাই গোলমাল। কেউ বলে, ওয়াকার নাকি ক্ষমতার খেলায় হেরে গেছেন। কেউ বলে, তিনি খুবই ‘বেশি’ বুঝে ফেলেছিলেন।

কিন্তু সবচেয়ে জনপ্রিয় তত্ত্ব, তিনি আসলে কোথাও যাননি। তিনি সেনানিবাসে রয়েছেন। তবে মনে হচ্ছে তিনি জনগণের মন থেকে “আনসাবস্ক্রাইব” হয়ে গেছেন।

এই দেশে অনেক কিছুই গোপনে হয়- প্রেম, বাজেট, পদোন্নতি—এখন হয়তো বন্দিত্বও সেই তালিকায় ঢুকেছে। তাই প্রশ্নটা সোজা, “ওয়াকার সত্যিই বন্দি, নাকি এই রাষ্ট্রই এখন তার নিজের ক্যান্টনমেন্টে আটকে আছে?”

একজন সেনাপ্রধানের যদি কথা বলার অনুমতি লাগে, তাহলে একজন নাগরিকের কথা বলার সাহসই বা কেমন করে বাঁচবে? আমি আসলে মিথ্যা এবং সত্যি কিছু বলছি না।

এখন বাংলাদেশ এমন এক জায়গা, যেখানে নীরবতাও ইউনিফর্ম পরে হাজির হয়।


Leave a Reply