পোস্ট ৬: খাগড়াছড়িতে মারমা এমপি চাই

খাগড়াছড়ি জেলায় চাকমা, ত্রিপুরা, এমনকি বাঙালী সম্প্রদায় থেকেও এমপি হয়েছে। কিন্তু একটি জনগোষ্ঠী আজও বঞ্চিত মারমারা। একজনও মারমা এমপি খাগড়াছড়ি কখনো পায়নি। এটা কাকতাল নয়, এটা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কাঠামোর ফল।

মারমারা অযোগ্য নয়। বরং তারা শান্তিপ্রিয়, বিশ্বাসযোগ্য এবং কথা দিলে কথা রাখে এমন মানুষ। সামাজিকভাবে তাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব নেই। কিন্তু রাজনীতির মাঠে এসে সেই ঐক্য বারবার ভেঙে পড়ে—বিশেষ করে বিএনপির ভেতরের বিভাজনের কারণে। এটি কিন্তু অনেকে স্থানীয় নেতাদের একটি কূটচাল বলে অনেকে মনে করে।

বর্তমানে মারমা সমাজের মধ্যে বিএনপি সমর্থনে দুটি গ্রুপ দেখা যায়। এটা আসলে মারমাদের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তারই প্রকাশ। অথচ তারা ঐক্যবদ্ধ হলে এমপি প্রার্থী দাঁড় করানোর মতো শক্তি ও জনসমর্থন—দুটোই রয়েছে।

তবু বাস্তবতা হলো, বিএনপির ভেতরে মারমাদের এমপি হওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ। ওয়াদুদ বহুবার নির্বাচনে ব্যর্থ হলেও তিনি কাউকে সুযোগ দিতে রাজি নন। এই একচেটিয়া রাজনীতির ফলেই সমীরণ দেওয়ান বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এবং তার জয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

অন্যদিকে, মারমাদের একটি বড় অংশ এখনো ওয়াদুদের পেছনে পড়ে আছে। এই নির্বাচনে ওয়াদুদ হারলেও ভবিষ্যতে মারমা প্রার্থীর সুযোগ তৈরি হবে এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং ওয়াদুদ নিজে না দাঁড়ালেও তার স্ত্রীকে প্রার্থী করার সম্ভাবনাই বেশি।

আমার পর্যবেক্ষণ হলো এই নির্বাচনের পর যে সরকারই আসুক না কেন, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বড়জোর কয়েক মাস থেকে দেড় বছর। রাজনৈতিক সংকট, আঞ্চলিক চাপ এবং প্রতিবেশী ভারতের প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে এই সরকার শুরুতেই চাপে পড়বে। ফলে এই নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেই তার বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

এই বাস্তবতায় মারমাদের সামনে প্রশ্নটা আরও জরুরি, তারা কি খাগড়াছড়ির বিএনপিকে একটি পারিবারিক রাজনীতির গণ্ডি থেকে বের করে আনতে পারবেন? এজন্য বিএনপি ছাড়তে হবে না, কিন্তু স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান নিতে হবে।

শেষ প্রশ্নটা থেকেই যায়, মারমা বুদ্ধিজীবীরা কি সেই সাহস নিতে পারবেন?

Leave a Reply