চুক্তির পর থেকে এবারের নির্বাচন আগের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে আলাদা। কিন্তু এই বিষয়টি বেশিরভাগ মানুষের খেয়ালের বাইরে রয়ে গেছে। দেশে যেমন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, তেমনি নির্বাচনেও কেউ আর আইন মানবে—এমন প্রত্যাশা করার সুযোগ নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পরিস্থিতি আরও বেশি ভয়াবহ। এই নির্বাচন আগে যেমন সেনা-নিয়ন্ত্রিত ছিল, তেমনি এখনো আছে। বরং বলা যায়, এবার তারা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করবে। এটি আর সাধারণ মানুষের হাতে নেই। বাঙালি জাতীয় দলের প্রার্থী হলে হয়তো সামান্য এদিক-সেদিক হতে পারে—এর বাইরে বাস্তবতা বদলানোর সুযোগ নেই।
নিজের ভোটাধিকার আছে ঠিকই, কিন্তু তা কার্যকর হবে না। তাই পাহাড়ে প্রতিটি সাধারণ আদিবাসীর প্রথম করণীয় হলো নির্বাচনের প্রার্থীদের কোন্দল থেকে নিজেকে দূরে রাখা।
কারণ সমীরণ দেওয়ান কিংবা ধর্মজ্যোতি চাকমা—এই পরিস্থিতিতে কারও জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা নেই। (একটি ভিন্ন উপায় আছে, সেটি পরে লিখবো।)
আর ধরুন, তাদের দুজনের কেউ একজন জিতলেও, তিনি সবার জন্য কিছু করতে পারবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। তারা হয়তো আপানাকে চেনেনই না। তারা সবায়কে চাকুরী দিতে পারবেন না। হয়তো কিছুই করতে পারবেন না যা অন্যন্যা প্রার্থীদের আমরা দেখেছি। গুটিকয়েক সুবিদে পেতে পারে।
তাই, আমাদের মত সাধারণ মানুষের বাস্তব লাভ খুব সীমিত। তার চেয়ে বরং জুম চাষ করুন, মাছ ধরুন। আনন্দে থাকুন। বাড়ির যেসব কাজ পড়ে আছে, সেগুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকুন। দেখবেন, আগামী বছরে আপনি অনেক এগিয়ে যাবেন। আর এগিয়ে না গেলেও অন্তত স্বজাতি ভাইদের হুমকি থেকে বেঁচে যাবেন। শান্তিতে ঘুমাতে পারবেন।
নিজে ভেবে দেখুন, এই নির্বাচন আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে আসলে কী দেবে? সামগ্রিক বিষয় আপাতত বাদ দিন। দুর্ঘটনায় নিজের যখন একটি পা ভেঙে যায়, ব্যথা আমি একাই পাই। কেউ সেই ব্যথার ভাগ নেয় না। এই নির্বাচন আসলে সেই রকম একটি দুর্ঘটনার সাথে উল্লেখ করা যায়। ভোটের সময় ভোট দিন যাকে খুশি। তা আমি না দিতে বলছি না।
হ্যাঁ, সামগ্রিক স্বার্থের কথা আপাতত বাদ দিন। সেটা সাধারণ খেতে খাওয়া আমাদের মত মানুষের এই নির্বাচনে ভাবার দরকার নেই।
সামগ্রিক চিন্তা নিয়ে আলাদা পোস্ট লিখবো, সেখানে আরও অনেক ঝট খুলে বলব। আপাতত এটুকুই—কোনো প্রার্থীর হয়ে বা কোনো দলের সঙ্গে চ্যালেঞ্জে না জড়িয়ে শান্তিতে থাকুন। এবারে অনেক প্রাণহানির আশঙ্কা আছে। এর সঙ্গে বড় কিছু ঘটছে, যা আমরা এখনো পুরোপুরি টের পাচ্ছি না।