
গরিবের ঘরেই আমার জন্ম। এ নিয়ে আমার কোনো লজ্জা নেই বরং আমি গর্ব করি। কারণ পার্বত্য চট্টগ্রামে গরিব মানুষের সংখ্যাই বেশি। আদিবাসীদের মধ্যেও আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
ছোটবেলা থেকেই বড়লোকদের প্রতি আমার এক ধরনের বিতৃষ্ণা ছিল। হয়তো স্বর্গীয় যতীন্দ্রলাল চাকমার সান্নিধ্য না পেলে এই বিতৃষ্ণা সেটলার-বিরোধী ঘৃণার মতোই তীব্র আকার নিত। সমাজে ধনী-গরিবের বৈষম্য আমি যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে উপলব্ধি করেছি, তা কেউ আমাকে আলাদা করে শেখাতে পারবে বলে মনে হয় না।
২০২৫ সালেও এসে সেই সাধারণ মানুষ ও বড়লোক, ধনী ও গরিবের শ্রেণিবিভাজন কমেনি। বরং এখন এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট। ধনী হওয়া এখন সহজ। খুব সহজে ধনী হওয়া যায়।
এই ধনী-গরিবের সামাজিক ব্যবধানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তথাকথিত দেশপ্রেমী দলগুলো। ধনী হওয়ার সহজ পথ হলো দল করা। সবাই নিজেকে দেশপ্রেমী, জুম্মপ্রেমী বলে দাবি করে।
কিন্তু কেউ যদি প্রশ্ন করে, এত দল, এত জুম্মপ্রেমের দাবি সত্ত্বেও পাহাড়ের এই অবস্থা কেন তাহলে উত্তর আসে, ‘ওদের জন্য’। সব কিছুর জন্য ‘ওরা’ দায়ী। নিজেদের দোষ কেউই দেখতে চায় না।
আমি বরাবরই এই প্রবণতার বিরোধী। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ওদের জন্য’ বলে দায় চাপানোর বিরোধী, সেটা যে দলই করুক না কেন। এই কারণেই আমি সব দলের কাছেই বিরোধী।
আসলে আমি সব দলের বিরোধী। কারণ আমি জনগণের পক্ষে। তাই আমার পোস্টগুলোতে সাধারণ মানুষই বেশি সাড়া দেয়।
এখন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে। বরাবরের মতো এবারও সাধারণ মানুষ বুঝে উঠতে পারছে না—আসলে কী হচ্ছে, কে সত্য কথা বলছে, বিষয়টা কী। দলগুলো সাধারণ মানুষকে নিজেদের মতো করে, নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করছে।
আর জাতীয় রাজনীতিতে যারা সম্পৃক্ত, তারা অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। তারা জনগণকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে জনগণের মাথা বিক্রি করে—যেমন আগে ছাগল বাঁধার খুঁটি দেখিয়ে ছাগল বেপারীর কাছে বিক্রি করা হতো। এখন শুধু ছাগলের জায়গায় মানুষ, আর খুঁটির জায়গায় মানুষের মাথা। পার্থক্য এটুকুই। বিনিময়ে মাল আর টাকা—সবই একই।
তাই নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে জনগণের কী করা উচিত, তা নিয়ে আমি ধীরে ধীরে লিখব। এই পথে আমার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ উঠবে—বিক্রি হওয়ার অভিযোগ, গালিগালাজ। তবু সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে সেগুলো মেনে নেব।
তবে এসব লেখা শুরু করার আগে বিনয়ের সঙ্গে, হাত জোড় করে একটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি আমার বিবেক, আমার কলম, আমার কণ্ঠ কখনো বিক্রি করি না। আগে অভাবের সময়ও করিনি, আর এখন তো সেই প্রশ্নই ওঠে না। পাহাড় থেকে যে সব জুম্ম আজ বিদেশে ভালো আছে বলে মনে হয়, তাদের তালিকা করলে আমার অবস্থান দশ নম্বরের নিচে হবে না।
তাই লেখা বিক্রির অভিযোগ আসার আগেই তার খণ্ডন করে রাখলাম। যারা টাকার জন্য বিক্রি হয়, তাদের টাকা দিয়ে মাপা যায়। কিন্তু আমি আলাদা।
এবার একটু ইঙ্গিত দিই, আমি কোন বিষয়ে লিখতে চাই। নির্বাচনে দেখলে মনে হয় পাহাড়ে বিরাট চারটি দল। কিন্তু আমার মূল্যায়নে বাস্তবে মূলত দুটি শক্তি—বিএনপি ও জামাত। বাকি যাদের চুক্তিপক্ষ ও চুক্তিবিরোধী হিসেবে দেখা হচ্ছে, তারা আসলে নির্বাচনের উপসর্গমাত্র।
এই সবের মাঝখানে আছে জনগণের কষ্ট ও বিভ্রান্তি। সেই বিষয়গুলো নিয়েই পরবর্তী পোস্টগুলো লিখব।
সঙ্গে থাকুন। জনগণের কথাই তুলে ধরব।