ইরানের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।দেশটিতে মূল্যস্ফীতি এখন ৪০ শতাংশেরও বেশি। মুদ্রার মান দ্রুত পড়ছে।রিয়াল এখন ডলারের সামনে প্রায় মূল্যহীন।
নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের বাইরে। খাবার কেনা অনেকের জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমেছেন প্রতিবাদে। রাষ্ট্র তাদের জবাব দিয়েছে গুলিতে।
এই দমননীতিতে প্রাণ গেছে সাধারণ ব্যবসায়ীদের। সরকার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে ভয় বেছে নিয়েছে। প্রতিবাদের মূল্য এখন মৃত্যু।
ইরানের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে ছিল তেল ও গ্যাসে।নিষেধাজ্ঞার পর সেই আয়ের পথ সংকুচিত হয়েছে।রপ্তানি কমেছে। রাজস্ব ভেঙে পড়েছে।
দেশটির বড় অংশ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে।জনসংখ্যার বেশিরভাগই জীবনযুদ্ধে পরাজিত। এক সময়ের শক্তিশালী রাষ্ট্র আজ অচল।
১৯৭৯ সালের পর থেকে এই পতনের শুরু। ধর্মের নামে রাষ্ট্র পরিচালনা শুরু হয়। গণতন্ত্র ধীরে ধীরে উধাও হয়।
ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয় এক গোষ্ঠীর হাতে।
রাষ্ট্র আর নাগরিকের নয়। রাষ্ট্র এখন শাসকের নিরাপত্তা কাঠামো। ভিন্নমত মানেই শত্রু। প্রতিবাদ মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ।
অর্থনীতি ভেঙে পড়লেও যুদ্ধের নেশা ছাড়েনি সরকার।
খাবার সংকটের মধ্যেই সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো হয়েছে। এর মূল্য দিয়েছে সাধারণ মানুষ।
মুদ্রার দর এমন জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে ন্যূনতম খাদ্যও বিলাস। দুর্ভিক্ষের ছায়া স্পষ্ট।
এই অবস্থায় সারা দেশে স্লোগান উঠছে। একনায়কতন্ত্র চাই না। মোল্লা শাসন চাই না।
২০২২ সালের ঘটনার পর এই আন্দোলন সবচেয়ে বড় আকার নেয়। শহর থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে ক্ষোভ। ভয় হারিয়ে রাস্তায় নামে মানুষ।
রাষ্ট্র একা হয়ে যাচ্ছে। বন্ধু কমছে। বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে।
যে কেউ প্রশ্ন তুললেই তার পরিণতি হয় ভয়াবহ। এই শাসন টিকে আছে রক্তের উপর।
এক সময়ের সম্ভাবনাময় দেশ আজ ব্যর্থ রাষ্ট্রের পথে। এই পথ নতুন নয়। এই পথ আগেও দেখা গেছে।
ধর্মীয় রাজনীতি যেখানে রাষ্ট্র দখল করে সেখানে অর্থনীতি, গণতন্ত্র—দুটোই ভেঙে পড়ে। ইরান তারই উদাহরণ।
আজ ইরানের রাজপথে একটাই কথা ঘুরছে— “শাসকের পতন চাই।”
এই আগুন নিভছে না। দিনে দিনে বাড়ছে। তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ইরানের মোল্লার দিন শেষ।
সত্য চাপা দেওয়া যায়। কিন্তু জনগণের অধিকার মুছে ফেলা যায় না।