নাইজেরিয়ার খ্রিস্টানদের কান্না আর ভারতের নতুন সুযোগ

৩১ অক্টোবর ২০২৫। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিলেন নাইজেরিয়াকে ‘Country of Particular Concern’। পরদিন, ১ নভেম্বর, তিনি আরও কঠিন স্বরে বললেন, “আমেরিকা চুপচাপ বসে থাকবে না।”
Good Luck, Nigeria. Good Luck, INDIA.

নাইজেরিয়ার আকাশে আজও ধোঁয়া উড়ে। কেউ আগুন জ্বালায়নি, তবুও গ্রাম পুড়ছে, গির্জা ভস্ম হচ্ছে, শিশুরা হারিয়ে যাচ্ছে। রাত্রির অন্ধকারে খ্রিস্টান পরিবারগুলো একেকটি প্রার্থনা করে, যেন সকালটা বেঁচে দেখে যেতে পারে। তারা জানে না তাদের ঘরে আগুন লাগবে, না শত্রুর বন্দুক উঠবে। তবুও তারা প্রার্থনা করে, “হে প্রভু, ওদের ক্ষমা করো।” তাদের অপরাধ একটাই — তারা খ্রিস্টান।

৩১ অক্টোবর ২০২৫। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিলেন নাইজেরিয়াকে ‘Country of Particular Concern’। পরদিন, ১ নভেম্বর, তিনি আরও কঠিন স্বরে বললেন, “আমেরিকা চুপচাপ বসে থাকবে না।”

এই ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ল পৃথিবীজুড়ে। কেউ বলল এটি ন্যায়ের ডাক, কেউ বলল এটি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি। কিন্তু আফ্রিকার সেই রক্তাক্ত মাটিতে যাদের প্রিয়জনদের হারিয়েছে, তাদের কাছে এটি ছিল আশার একটুখানি আলো।

তবুও বিশ্ব নীরব। জাতিসংঘের সভায় কেউ নাইজেরিয়ার নাম উচ্চারণ করে না। ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো নিজেদের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। আর যারা প্রতিদিন খ্রিস্টানদের কবর দিচ্ছে তারা জানে, পৃথিবী চুপ থাকলে অপরাধীরা আরও শক্ত হয়। তাই আজ নাইজেরিয়ার খ্রিস্টানদের কান্না শুধু এক জাতির নয়, মানবতার কান্না।

একজন মায়ের বুকের ভেতর আগুন জ্বলে ওঠে যখন তার ছেলেকে গির্জার সামনে গুলি করা হয়। এক বৃদ্ধ পাদ্রী শেষ নিঃশ্বাসে প্রার্থনা করেন, “হে ঈশ্বর, আমাদের দেশকে ক্ষমা করো।” তাদের কণ্ঠরোধ করা যায়, কিন্তু তাদের বিশ্বাস ভাঙা যায় না। এই বিশ্বাসই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশ্চর্য হচ্ছে রক্ত ঝরে, তবুও তারা প্রার্থনা করে।

আমরা যারা দূরে বসে কেবল খবর পড়ি, আমাদেরও একদিন ঈশ্বর জিজ্ঞেস করবেন, “যখন আমার সন্তানরা মরছিল, তুমি তখন কোথায় ছিলে?” এই প্রশ্নের কোনো উত্তর আমাদের কাছে নেই। কারণ আমাদের নীরবতাই আজ হত্যার সহচর হয়ে উঠেছে।

নাইজেরিয়ার খ্রিস্টানদের জীবন বাঁচানো মানে কেবল এক ধর্মকে রক্ষা করা নয়, মানবতাকে বাঁচানো। তাদের জন্য আওয়াজ তোলা মানে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো। কারণ প্রতিটি নিঃশব্দ মৃত্যু আমাদের আত্মার বিবেককে আরও কিছুটা মেরে ফেলে। আর যদি পৃথিবী আজও নীরব থাকে, তবে আগামীকাল মানবতা নিজেই নির্বাসিত হবে।

একজন খ্রিষ্টান হিসেবে বা একজন মানুষ হিসেবে নয়, একজন পাহাড়ের শত বছরের নির্যাতিত জাতির একজন আদিবাসী হিসেবে আমি চাই আমেরিকা নাইজেরিয়ায় সৈন্য পাঠাক। এটা যেমন নির্যাতিত খ্রিষ্টানদের রক্ষা করা হবে তেমনি সারা বিশ্ব জুড়ে যে ইসলামি সন্ত্রাসীরা নিধন যজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হবে।

তাছাড়াও আমেরিকার একটি যুদ্ধ খুবই প্রয়োজন। আর এটি ভেনেজুলার সাথে যুদ্ধ করার চেয়ে নাইজেরিয়ার ইসলামি সন্ত্রাসী ধ্বংস করা হাজারোগুন লাভ আছে। এবিষয়ে মধ্যপ্রাচ্য কিংবা মুসলিম দেশগুলো এখনো নীরব। নীরব মানে একপ্রকার সমর্থন। সেটা অন্য একদিন বলবো।

তবে খুশির খবর এই ইসরায়েলী NGO গুলো সেখানে পোঁছে গেছে। তবে তারা এককভাবে সামাল দিতে

কিন্তু পাহাড়ে কি লাভ?

অপরিসীম।

কি বলতে হবে?

সম্প্রতি আমেরিকা ও ভারত ১০ বছরের জন্য একটি চুক্তি করেছে। সেই চুক্তি সম্পর্কে আমরা সবাই কমবেশি জানি। কেউ সেটিকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছে, আবার কেউ হালকাভাবে নিয়েছে।

হ্যাঁ, আমেরিকা যদি সত্যিই নাইজেরিয়ায় সেনা পাঠায়, তবে ভারতও দেরি করবে না। আপাতত হাসিনা দিদিকে কোনোভাবে দেশে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ঠিক করা যায় কিনা তা নিয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে। কিন্তু মনে হচ্ছে, সেই পরিকল্পনা এখন মোটামুটি বাতিল। দিদি আর ফিরতে পারবেন না।

তাছাড়া এখনই পাকিস্তানের মাথা টিপে দেওয়ার সময় যখন পাকিস্তান আন্তর্জাতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে টাকার জন্য হাতে ভিক্ষার পাত্র নিয়ে ঋণ বাদ দিয়ে মানবিক সাহায্য চাচ্ছে। পরে হয়তো বা ঘাঁটি বাংলাদেশে শক্ত হয়ে যাবে। এবার না হলে ভারতকে ২০৩০ অপেক্ষা করতে হবে।

Good Luck, Nigeria. Good Luck, INDIA.


Leave a Reply