পরীক্ষার ফলাফল যা বলছে: মোল্লা হও না হয় সেনাদের ব্যবসা সমর্থন করো

https://purnalal.com/
কি হবি?

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এবারের চিত্র যেন নিছক ফলাফল ঘোষণার খবর নয়—এ যেন জাতির ভবিষ্যৎ পথরেখা পুনর্লিখনের ঘোষণা।

এবারের পরীক্ষার ফলাফল আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, এই রাষ্ট্র এখন তরুণদের জন্য দুটি দরজা খুলে রেখেছে—একটি মাদ্রাসার, আরেকটি সেনা পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।

অর্থাৎ, তুমি হয় ধর্মীয় শিক্ষার মোড়কে আত্মসমর্পণ করো, নয়তো সেনা ব্যবসার অংশ হয়ে যাও। মাঝখানে কোনো ‘মানবিক শিক্ষা’ নেই, নেই স্বাধীন চিন্তার অবকাশ।

পাহাড়ে এই রণনীতি বহু আগেই পরীক্ষা করা হয়েছে। সেনারা নিরাপত্তার নামে পাহাড় দখল করেছে, বনজ সম্পদ নিয়েছে, নদী, পাহাড় দখল করে পর্যটন বানিয়েছে, পাহাড়ি গ্রাম ঘিরে “ক্যাম্প” বানিয়েছে, আর এখন সেই অভিজ্ঞতা তারা সমতলে রপ্ত করছে।

আজকের “শিক্ষা” তাই শুধু বইপত্র নয়, বরং একটি কৌশল যার উদ্দেশ্য, স্বাধীন চিন্তাকে ব্যবসায় পরিণত করা।

যে সেনাবাহিনী একসময় সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত ছিল, এখন তারা পাহাড়ের প্রতিটি ইঞ্চি, এমনকি প্রতিটি ক্লাসরুমকেও নিজের নিয়ন্ত্রণে আনছে। শিক্ষা যেন নতুন যুদ্ধক্ষেত্র যেখানে জ্ঞানের বদলে আনুগত্য শেখানো হয়, প্রশ্নের বদলে প্রার্থনা শেখানো হয়, আর স্বাধীনতার বদলে শৃঙ্খলাকে গৌরব বলা হয়।

এবারের পরীক্ষার ফলাফল আসলে এক নীরব রাজনৈতিক বিবৃতি। যে ফলাফল নির্ধারণ করছে কে মোল্লা হবে, কে অফিসার হবে, কে বাদ পড়বে—সব কিছুই এক প্রকার প্রশাসনিক পরিকল্পনার অংশ।

পরীক্ষার নাম জ্ঞান, কিন্তু উদ্দেশ্য নিয়ন্ত্রণ। ফলাফল এখন মেধার মানদণ্ড নয়, বরং আনুগত্য যাচাইয়ের স্কোরকার্ড।

এভাবেই শিক্ষা ব্যবসায় পরিণত হচ্ছে—বই বিক্রি, ফি, বৃত্তি, বোর্ড, প্রতিটি ধাপে এক সুসংগঠিত অর্থনৈতিক চক্র কাজ করছে। সেনা পরিচালিত স্কুল থেকে শুরু করে ক্যাডেট কলেজ পর্যন্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নেপথ্যে আছে একই সূত্র: “শিক্ষা নয়, ব্র্যান্ড।” যার মধ্যে নিহিত আছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার এক নতুন রূপ—অর্থনৈতিক, সামরিক ও আদর্শিক এক ত্রিমুখী জাল।

সবচেয়ে ভয়াবহ হলো, এই ব্যবস্থার ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে একটি দেশের চিন্তার স্বাধীনতা।
তরুণরা আর স্বপ্ন দেখে না। তারা এখন ক্যারিয়ার হিসাব করে, নম্বর গণনা করে, আর জানে কোথায় যেতে হবে: মাদ্রাসায় না সেনা স্কুলে। যেন একটি অদৃশ্য হাত তাদের নিয়তি লিখে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের পাহাড়ে সেনারা যেমন বন্দুক দিয়ে জমি বেদখল করে নিয়েছিল, আজ সেই একই কৌশলে তারা তরুণদের মন দখল করছে—পাঠ্যবইয়ের মাধ্যমে। শিক্ষা যখন রাষ্ট্রের হাতে বন্দী হয়ে যায়, তখন মুক্তচিন্তা হয়ে পড়ে রাষ্ট্রবিরোধী, আর প্রশ্ন হয়ে যায় অপরাধ।

এই বাস্তবতায়, আমাদের পরীক্ষা কেবল ছাত্রদের নয়—পুরো জাতির।বিষয়টি খালি চোখে দেখা না গেলেও কিন্তু সত্যি।

Leave a Reply