বাংলাদেশে কি আবার সামরিক শাসন আসতে চলেছে?

Bd-army2025
বাংলাদেশ আর্মি

বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এখন ভীষণ বেকায়দা অবস্থানে!  একদিকে  ঘর সামলাবে না বাহির সামলাবে!  আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে দোষী সাব্যস্ত হওয়া অন্যদিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়া! 

একদিকে তাদের মি. ক্লিন ইমেজে কালিমা লিপ্ত হয়ে সাধারণ জনগণের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা হারানোর ভয়,  অন্যদিকে ইনকামের বিশাল একটা অংশ সীমিত হয়ে যাওয়া! আবার ভূ-রাজনৈতিক চক্করে পড়ে আম ছালা সবিই হারানোর শংকাও কম নয়!

অবশ্য বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর অতীত ইতিহাস খুব একটা গৌরবের তা বলা যাবে না!  বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে তাদের হাত বার বার রক্তে রঞ্জিত হয়েছে -স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিব,  জাতীয় নেতা থেকে জিয়াউর রহমান সহ রাষ্ট্রনায়কের রক্তে ,  দেশের শাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে বার বার,  যার ধারাবাহিকতা এখনো চলমান- বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে! 

পার্বত্য এলাকার মাটি তাদের কারণেই বার বার রক্তে রঞ্জিত হয়েছে,  এখনো হচ্ছে!  কখনো সরাসরি,  কখনো ডিভাইড এন্ড রুলস পলিসির প্রয়োগ ঘটিয়ে, কখনো  বা তাদেরই প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পুণর্বাসিত সেটেলারদের মাধ্যমে তারা পার্বত্য চট্টগ্রামে যুগ যুগ ধরে এই রক্তের হোলি খেলা চালিয়ে যাচ্ছে,  পাশাপাশি সীমাহীন অর্থবিত্তের মালিক বনে যাচ্ছে!  যেহেতু বাংলাদেশের দুর্বল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে কোন নির্বাচিত সরকারই সামরিক বাহিনীর উপর কতৃত্ব করতে পারেনি বরং তাদেরকে তোয়াজ করেই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সম্ভাব্য সবকিছু করেছে! 

তারই ফলশ্রুতিতে সামরিক বাহিনী আজ আর দেশ রক্ষার বাহিনী নয়,  তারা দিনে দিনে কর্পোরেট বাহিনীতে পরিনত হয়েছে!  একদিকে কর্পোরেট ব্যবসা সম্প্রসারণে পূর্ণ মনোযোগ,  অন্যদিকে সরকারি প্রশাসনের উপর কতৃত্ব সবকিছু মিলিয়ে তাদের শৃঙ্খলা রক্ষা,  চেইন অব কমান্ড দিন দিন ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে! 

এটা আরো প্রকট হয় শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের সময়! শেখ হাসিনা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সামরিক বাহিনীর জন্য এমন কিছু বাকি রাখেননি, যা তারা চেয়েছে,  কিন্তু ক্রাইসিস মূহুর্তে তারা তাকে সেইফ এক্সিট ছাড়া আর কোন সহায়তা দেয়নি, শুধুমাত্র এই চেইন অব কমান্ডের দুর্বলতার কারণে!

আর এখন যখন তাদের আর একটা দুর্বলতা জনগণের কাছে উন্মোচিত হতে চলেছে,  তখন তারা দেশের বিদ্যমান আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদেরকে রক্ষা করার প্রয়াস চালাচ্ছে!  আইনের চোখে যারা অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছে,  গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তাদেরকে রক্ষা করতে যাওয়া কোন সুশৃঙ্খল বাহিনীর কাজ নয়! আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তাদের উচিত অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা!  তা না করে তাদেরকে হেফাজতে নিয়ে রাখা মানে তারা দেশের প্রতি,  দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়! 

বাস্তবতা হলো, অন্তরর্তী সরকার যেহেতু একটা নড়বড়ে সরকার, তাই তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা কোন ভাবেই সম্ভব হবে না!  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো – তাদের স্বার্থে আঘাত লাগলে নির্বাসন বানচাল করে ক্ষমতা দখল নিবেনা তারই বা নিশ্চয়তা কি!

লেখকঅচেনা পাহাড়ি বুদ্ধিজীবী।

বিদ্রঃ পোস্টটি লিখেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের এক বিশিষ্ট লেখক।তিনি তার নাম প্রকাশ করতে চান নি। তাই নাম রাখলাম “অচেনা পাহাড়ি বুদ্ধিজীবী।” কিন্তু ছবিটি আমি বানিয়েছি। তাই এই লেখার কৃতিত্ব এবং মতামত আমার নয় । এটা সম্পূর্ণ লেখকের কৃতিত্ব। এটি তার দ্বিতীয় আর্টিকেল।

কেউ এধরনের পোস্ট লিখতে চাইলে লিখতে পারেন। সুন্দর হলে আমি আমার ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবো।

Leave a Reply