জাতীয় রাজনীতির অস্থির প্রেক্ষাপটে শুক্রবার দুপুরে রাজধানীতে ঘটে গেল একটি গুরুতর ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। জাতীয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে এই হামলার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ও শঙ্কা তৈরি করেছে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনার পরপরই তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশে থাকা লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার শরীরে গুলির আঘাত রয়েছে এবং চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ঘটনাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে। হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবেই আসে এবং গুলি চালানোর পর দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। হামলার ধরন দেখে অনেকেই এটিকে নিছক সন্ত্রাসী ঘটনা না বলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ হিসেবে দেখছেন। তবে ঘটনার পরপরই কেউ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
জাতীয় ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটি একটি সরাসরি রাজনৈতিক হামলা এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা। তারা অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে, তবে আন্দোলনের পথ থেকে সরে না যাওয়ার কথাও স্পষ্ট করা হয়েছে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার পেছনের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
একদিকে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, অন্যদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে একজন এমপি পদপ্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা প্রশ্ন তুলছে দেশের রাজনৈতিক নিরাপত্তা ও সহনশীলতা নিয়ে। এই হামলা শুধু একজন রাজনীতিকের ওপর আঘাত নয়, বরং পুরো রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য একটি অশনিসংকেত। অনেকের চোখে, এখান থেকেই শুরু হলো আরও বড় কোনো ‘খেলা’, যার পরিণতি কী হবে—তা এখনো অজানা।