মুর্শিদাবাদ থেকে ফিরতে পারে ২ লক্ষ বাংলাদেশি

ভারতের মুর্শিদাবাদ থেকে প্রায় ২ লক্ষ বাংলাদেশি দেশে ফিরে আসতে পারে এমন খবর এখন দুই দেশের সীমান্ত অঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। অনেকে দাবি করছে, এরা ভারতে গিয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে হিন্দু পরিচয় নিয়েছিল, কেউবা আধার কার্ড তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছিল।

তারা যে বর্তমান সরকার বা লীগ সরকার গঠন করবে সে টানে ফিরে আসছে তা নয়। বরং SIR-এর ভয়, অর্থাৎ ভারতের নাগরিকত্ব যাচাই ও একের পর এক পরিচয়–তদন্তের কারণে তারা আবার বাংলাদেশেই ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপট বুঝতে হলে আগে মুর্শিদাবাদের সামাজিক ও জনসংখ্যাগত অবস্থাটা জানা দরকার। চলুন দেখি।

মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার একটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এর সদর বহরমপুর, আর পুরো অঞ্চলই গঙ্গার তীর ধরে বিস্তৃত। আয়তন প্রায় ৫,৩২৪ বর্গকিলোমিটার, যা রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ প্রশাসনিক এলাকা।

২০১১ সালের সরকারি গণনায় জেলার জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭১ লাখ—পুরুষ প্রায় ৩৬ লাখ এবং নারী প্রায় ৩৫ লাখ। প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১,৩৩৪ জন মানুষ থাকায় এটি পশ্চিমবঙ্গের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ জেলাগুলোর একটি।

দ্রুত বাড়ছে জনসংখ্যা। জনসংখ্যা এই বৃদ্ধির হার দেখে ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালে মুর্শিদাবাদের জনসংখ্যা ৭৭ লাখের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

ধর্মীয় গঠনে এই জেলা পশ্চিমবঙ্গের অন্য যে কোনো জেলার তুলনায় বেশি সংবেদনশীল। মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ—প্রায় ৪৭ লাখ মানুষ—মুসলিম। হিন্দু রয়েছে প্রায় ২৩ লাখ, আর খ্রিষ্টান খুবই কম—মাত্র ১৮ হাজারের মতো।

এছাড়া শিখ ও অন্য ধর্মের অনুসারী সংখ্যা এতটাই কম যে আলাদা করে পরিসংখ্যানে তেমন উঠে আসে না।

শিক্ষার দিক থেকেও মুর্শিদাবাদ পিছিয়ে থাকা জেলার একটি। মোট সাক্ষরতার হার প্রায় ৬৬%, যেখানে পুরুষদের হার তুলনামূলক বেশি এবং নারীদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

জেলার প্রায় ৮০% মানুষই গ্রামে বসবাস করে, এবং অধিকাংশই কৃষিনির্ভর জীবিকা অনুসরণ করে।

সব মিলিয়ে মুর্শিদাবাদ একটি ঘনবসতিপূর্ণ, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ, কৃষিনির্ভর এবং ঐতিহাসিক জেলা।

ঠিক এই কারণেই, পরিচয় যাচাই–সংক্রান্ত যে কঠোর নীতি এখন ভারতজুড়ে আলোচনায়—তার চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে মুর্শিদাবাদে থাকা বাংলাদেশিদের ওপর।

ফলে আগামী দিনে হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আবার বাংলাদেশেই ফিরে আসতে পারে এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কোথায় রাখা হবে তাদের?


Leave a Reply