শান্তিপূর্ণ সেটলারদের স্লোগান, “জ্বালো রে জ্বালো”

শান্তিপূর্ণ সেটলারদের স্লোগান, “জ্বালো রে জ্বালো”
(শান্তিপূর্ণ সেটলারদের স্লোগান, “জ্বালো রে জ্বালো”)

শান্তিপূর্ণ সেটলার! শান্তিপূর্ণ হরতাল!

নামটা শুনলে যেন মনে হয় ফুলের মালা হাতে কেউ রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু মাঠে নেমে দেখা গেলো অন্য চিত্র। যারা নিজেদের শান্তিপ্রিয় বলে পরিচয় দেয়, তারাই আজ রাস্তায় আগুন লাগানোর মতো স্লোগান দিচ্ছে, “জ্বালো রে জ্বালো, আগুণ জ্বালো।”

হাসি পাচ্ছে?

একবার স্লোগানটা শুনলেই বোঝা যায়, শান্তির সঙ্গে এর কোনো দূরবর্তী সম্পর্কও নেই। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নামে এই স্লোগান আসলে কী বার্তা দেয়? কাকে জ্বালাতে চায় তারা? কার বিরুদ্ধে এই আগুন?

গতকালকের ঘটনা আরও পরিষ্কার। “শান্তিপূর্ণ হরতাল”-এর নাম করে যাদের রাস্তায় শান্তিপূর্ণ থাকার কথা ছিল, তারাই আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা করেছে। শুধু তাই নয়, দায়িত্ব পালন করতে যাওয়া একজন আদিবাসী মহিলা পুলিশকেও হেনস্তা করা হয়েছে—এমন ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে।

যেখানে শান্তি, সেখানে হামলা নেই; যেখানে হামলা, সেখানে শান্তি নেই—এই সাধারণ সত্যটাই যেন তারা মানতে নারাজ।

আজকের ছবিটায় দেখা যায়, ব্যানার হাতে একদল সেটলার রাস্তায় মিছিল করছে। মুখে শান্তির কথা, কিন্তু ব্যানারের ভাষা আর স্লোগানের আগুনে সেই শান্তিই যেন ধোঁয়ায় মিলিয়ে যায়। তাদের মুখ থেকে ভেসে আসে আগুন ধরানোর আহ্বান—এই স্লোগান শুনে কি কাউকে শান্তিপ্রিয় মনে হয়?

হরতালের নামে যখন আগুনের ডাক পড়ে, যখন সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা হয়, যখন পুলিশও রেহাই পায় না—তখন সেই হরতালকে শান্তিপূর্ণ বলা আর মিথ্যার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ছাড়া আর কিছুই নয়।

শান্তিপূর্ণ?
নাকি শান্তির মুখোশ পরে সহিংসতার মহড়া?

পাহাড়ের সমাজ জানে, আগুনে জ্বলে শুধু ঘর নয়—জ্বলে ওঠে সত্যও। আর সেই সত্যটা আজ আবার চোখের সামনে, শান্তির নামে যে আগুন জ্বলে, সেটা কখনোই শান্তি নয়; সেটা শুধু আগুন।


Leave a Reply