কার সাথে তুলনা করা হচ্ছে ইউনুসকে এবং কেন?

কার সাথে তুলনা_
খামেনির সাথে তুলনা করা হচ্ছে

ওয়াশিংটনের বাতাসে এক ভয়ঙ্কর শব্দ এখন ভাসছে, “বাংলাদেশে খোমেনির পুনর্জন্ম ঘটছে।”

এই কথার জনক আমেরিকার প্রভাবশালী থিংক ট্যাংক American Enterprise Institute (AEI)–এর গবেষক ও মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক মাইকেল রুবিন।

তিনি এক বিস্ফোরক মন্তব্যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনুসকে তুলনা করেছেন ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নির্মাতা আয়াতুল্লাহ খোমেনির সঙ্গে।

রুবিনের ভাষায়, ইউনুস আর কোনো অর্থনীতিবিদ নন। তিনি এখন এক “প্রতিশোধপরায়ণ স্বৈরাচারী”, যিনি নোবেল পুরস্কারের মর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন রাজনৈতিক দমনপীড়নের বৈধতা দিতে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিক, আইনজীবী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর এখন এমন এক নিপীড়ন চলছে, যা বিশ্বের কাছে ‘ফ্যাসিবাদের পাঠ্যপুস্তক’ হয়ে উঠতে পারে।

“বাংলাদেশ এখন প্রকৃত ফ্যাসিবাদ দেখছে,”—এই সতর্কবাণীই ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কানে।

রুবিন শুধু সমালোচনা করেননি; তিনি এক গোয়েন্দা-গল্পের মতো বিশ্লেষণ সাজিয়েছেন। তাঁর দাবি, ৫ আগস্টে যা ঘটেছিল, সেটি ছিল পরিকল্পিত সেনা অভ্যুত্থান—যার ছায়া লুকিয়ে আছে পাকিস্তানি আইএসআই–এর নকশায়।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশের অস্থিরতা ছিল বহিঃপৃষ্ঠপোষকতার ফসল—তুরস্ক ও কাতার এই অপারেশনের অর্থদাতা, আর আইএসআই ছিল পরিকল্পনাকারী।

সব মিলিয়ে তাঁর ভাষায়, এটি বহুদিন ধরে তৈরি হওয়া একটি ‘রাজনৈতিক জিহাদ পরিকল্পনা’, যার লক্ষ্য—বাংলাদেশকে দ্বিতীয় পাকিস্তানে রূপান্তর করা।

রুবিন সতর্ক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত এখনই হস্তক্ষেপ করা, কারণ যদি ইউনুসের এই পথচলা চলতেই থাকে, তাহলে বাংলাদেশ শিগগিরই হয়ে উঠবে “একটি ব্যর্থ ইসলামি রাষ্ট্র।”

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসনকালে নানা বিতর্ক থাকলেও তখন দেশ ধর্মনিরপেক্ষ ছিল, বাকস্বাধীনতা ছিল, আর মৌলবাদীদের কোনো জায়গা ছিল না।

তাঁর মতে, শেখ হাসিনা এখনো বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী এবং দেশকে মৌলবাদী শক্তির হাত থেকে রক্ষার একমাত্র রাজনৈতিক প্রতিরোধপ্রাচীর।

তাই তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সংকটকে হালকাভাবে না দেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত সৎ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথে ফিরিয়ে নেওয়া।

রুবিনের বক্তব্য একদিকে তথ্যসমৃদ্ধ, অন্যদিকে ভীতিকর।

তিনি এমন এক বাংলাদেশের ছবি এঁকেছেন, যেখানে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত এক সমাজসেবক রাষ্ট্রের অভিভাবক হয়ে উঠেছেন। কিন্তু সেই অভিভাবক এখন স্বপ্ন দেখছেন নিয়ন্ত্রণের, স্বাধীনতার নয়।

রুবিন বলেন, “যে নেতা মানবতার নামে রাজনীতি শুরু করেছিলেন, তিনিই এখন ধর্মীয় উন্মাদনার ভেতর দিয়ে নিজেকে খোমেনি রূপে পুনর্জন্ম দিতে চাইছেন।”

এ বিশ্লেষণ নিছক কোনো রাজনৈতিক কল্পনা নয়—এটি এক গভীর সতর্কবার্তা।

বাংলাদেশ আজ এমন এক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে ধর্ম, রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কৌশলের মিশ্রণ রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে ক্ষয় করছে।

রুবিনের বক্তব্য শুধু আমেরিকার কূটনীতিকদেরই নয়, বরং বিশ্বের সেই অংশকেও নাড়া দিয়েছে, যারা বুঝতে পারছে—দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা আবারও বিপন্ন হতে পারে।

আর এখানেই প্রশ্ন নয়, ভয় জাগে—

ইউনুস সাহেব কি সত্যিই দেশকে মৌলবাদী উত্থানের পথে নিয়ে গিয়ে খোমেনির মতো ক্ষমতায় টিকে থাকতে চান?

যদি তা-ই হয়, তাহলে বাংলাদেশ হয়তো খুব শিগগিরই ধর্মনির্ভর রাজনীতির এক নতুন পরীক্ষাগার হয়ে উঠবে—যেখানে স্বাধীনতার নামেই জন্ম নেবে নতুন এক দমনযুগ।


Leave a Reply