বাংলাদেশের ৯৯% ভারত–বিরোধী বলেছি শুনে অনেকে হাঁসফাঁস। কিন্তু আসল ভুলটা কোথায় জানেন?
যেদিন আমি লিখলাম, “বাংলাদেশের ৯৯% ভারত–বিরোধী”, সেদিন ফেসবুক যেন হঠাৎ করে বদহজমের জরুরি বিভাগের মতো হয়ে গেল।
কেউ পানি খেল, কেউ ওষুধ খেল, আর কেউ মনে করল আমি বুঝি দেশের সবাইকেই এক ট্রালিতে তুলে পাঠিয়ে দিয়েছি!
অনেকেই ভেবে নিল, আমি নাকি সেই সংখ্যালঘু ৯.২৫%—অর্থাৎ:
✔ আদিবাসী ১%
✔ হিন্দু ৭.৯৫%
✔ খ্রিষ্টান ০.৩০%
এই বিশাল জনগোষ্ঠীকেও ৯৯%–এর মধ্যে গুঁজে দিয়েছি।
হে দয়াময় মানুষজন, একটু মাথা ঠান্ডা করে ভাবুন তো
বাংলাদেশের মৌলবাদীরা যাদের নাগরিকই মনে করে না, তাদের আমি কেন ওই তালিকায় ঢোকাবো?
৯.২৫% আসলে কতজন?
বাংলাদেশের আনুমানিক জনসংখ্যা ১৭ কোটি ৫৭ লাখ (১৭৫.৭ মিলিয়ন)।
তাহলে ৯.২৫% দাঁড়ায়—
👉 ১ কোটি ৬২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ (প্রায়)
হ্যাঁ, শুধু শতাংশ নয়। বাস্তবে একটি পুরো দেশের সমান মানুষের সংখ্যা!
কিন্তু মৌলবাদীদের চোখে এরা আছে কোথায়?
ওদের হিসাবের খাতায় এরা থাকে ঠিক সেই জায়গায় আর সে জায়গা হচ্ছে গণিতের “অপ্রাসঙ্গিক” তথ্য খাতায়।
কি ভুল বললাম?
নির্বাচনের কয়েক ঘন্টার আগের শ্লোগানের কথা মনে করিয়ে দেবো?
হিন্দু-মুসলিম ভাই- –
পাহাড়ী বাঙালি ভাই – –
নির্বাচনের রেজাল্টের পর শ্লোগান বদলে যায়।
তখন কি হয় শ্লোগান?
কেউ বলুন ( কমেন্ট খালি রেখে দিলাম)
মৌলবাদীরা যাদের নাগরিকই মনে করে না তাদের আমি কেন “৯৯% ভারত–বিরোধী”-এর ভেতরে ঢোকাবো?
বাংলাদেশের মৌলবাদী শক্তির কাছে—
👉 আদিবাসী মানেই “দেশের বাইরে থেকে আসা”,
👉 হিন্দু মানেই “ভারতপন্থী”,
👉 খ্রিষ্টান মানেই “পশ্চিমা এজেন্ট”।
অথচ এরা এই দেশেরই মানুষ।
জন্ম এখানেই, মাটি এখানেই, ইতিহাস এখানেই।
কিন্তু মৌলবাদীদের চোখে এই ৯.২৫% মানুষ নাগরিক নয়, ভোট নয়, মানুষও নয়। এরা শুধু রাজনৈতিক স্লোগানের কাঁচামাল।
তাই আমি যখন বলি “৯৯% ভারত–বিরোধী। আমি এই ৯.২৫% মানুষকে সেই সংখ্যার বাইরে রাখি।
কারণ ওদের নাগরিকত্বই যাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ তাদের কীভাবে ওই হিসাবের ভেতরে নেবো?
কিছু মানুষ ভারতে পালিয়ে গিয়ে হঠাৎ অসাম্প্রদায়িকতার আলোকপ্রাপ্তি হয়।বড় হাস্যকর।
আরেকটা ঘটনা আরও রসিক।
বাংলাদেশে নির্যাতন, জমি দখল বা আগুন লেগে পালিয়ে ভারত যাওয়া কিছু মানুষ হঠাৎ করেই সেখানে গিয়ে—
👉 কংগ্রেসে যোগ দেয়,
👉 অসাম্প্রদায়িকতার পবিত্র চাদর মুড়ি দেয়,
👉 আর বলে, “বাংলাদেশ তো সহিংসতার দেশ নয়—সবই মিডিয়ার গল্প!”
মনে হয় যেন বাংলাদেশে ওরা স্পা রিসোর্টে বড় হয়েছে, আর আমরা নাকি গল্প বানাই!
তাই শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যই এখানে সোজা মাথায় লাগে
শুভেন্দু অধিকারীর সেই বিখ্যাত মন্তব্য—
“এ পারের সাম্যবাদী!”
কথাটা শুধু রসিকই নয় বরং প্রায় শল্যচিকিৎসার মতো সঠিক জায়গায় কাটে।
এই শব্দটি অনেকের অন্ত্র–উদর নাড়া দিয়ে দেয়। কারণ সত্য কথা সবসময়ই একটু তেতো।
আমার হিসাব ঠিক, পেটব্যথা যাদের ওষুধ তাদের লিখে দিচ্ছি। খাবেন কিন্তু। কলকাতাতে পাওয়া যাবে।
আমি যখন বলেছি “বাংলাদেশের ৯৯% ভারত–বিরোধী”—
সেটা বলেছি পরিষ্কার যুক্তিতে।
✔ যে ৯.২৫% মানুষকে মৌলবাদীরা নাগরিকই মনে করে না তাদের আমি ওই তালিকায় রাখিনি।
✔ তারা দেশের প্রকৃত সম্পদ, কিন্তু চরমপন্থীদের চোখে তারা “ফুটনোট”।
✔ আর ভারতে পালিয়ে গিয়ে যারা হঠাৎ অসাম্প্রদায়িকতার গুরু হয়ে যান তাদের জন্যই শুভেন্দু অধিকারীর লাইন যথাযথ, “এ পারের সাম্যবাদী!”
যদি কারও টনক নড়ে, তাহলে বুঝবেন পোস্টটি তার গন্তব্যে পৌঁছেছে।
আর যদি আবার বদহজম হয় তাহলে সত্য কথার ওষুধ সকালে–বিকালে দুই বেলা।
(নোটঃ ছবিটি দুদিন আগে ঢাকায় হিন্দু ধর্ম অবমাননার বিচার চেয়ে হিন্দু ভাই-বোনদের সমাবেশ।সরকার এর পদক্ষেপ নিয়েছে কি? গত ২৪ ঘন্টায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কি ঘটেছে খবর নিন)